কাশ্মিরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে পিডিপি নেতা গোলাম নবী নিহত

বিশ্বজগৎ ভারত লিড নিউজ

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সাবেক নেতা গোলাম নবী প্যাটেলকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার জম্মু-কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালালে মারা যান তিনি। হামলার পরপরই স্থান ত্যাগ করে হামলাকারী। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

এনডিটিভি জানায়, বুধবার বিকালে জম্মু-কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলার রাজপুরা চকে প্যাটেলের গাড়ি লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ওই সময় প্যাটেল ছাড়াও গাড়িতে তার দুইজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তারাও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। গোলাম নবী প্যাটেলকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

প্যাটেল গত বছর পিডিপি’র জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। জম্মু ও কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। নিহত গোলাম নবীর প্ররিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন মেহবুবা। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুর্বৃত্তরা দ্রুত রাইফেলসহ পালিয়ে গেছেন বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। এদিকে, জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী সাবেক এ পিডিপি নেতার প্রাণহানির ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে জম্মু-কাশ্মিরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও বন্দুকধারীদের মধ্যে এক সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যসহ মোট ছয় জন নিহত হয়। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় রাইফেলসহ এক পুলিশ সদস্য নিখোঁজ হন।  মঙ্গলবার পুলওয়ামা জেলার ত্রাল এলাকায় দীর্ঘ বারো ঘণ্টাব্যাপী সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানে উভয়পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে চার গেরিলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হন। নিহত বন্দুকধারীরা জৈশ-ই-মুহাম্মদ গোষ্ঠীর সদস্য বলে মনে করা হচ্ছে।

বন্দুকধারীরা পুলওয়ামা জেলার ত্রাল অঞ্চল লাগোয়া লাম-অরিপাল জঙ্গল এলাকায় লুকিয়ে আছে এমন খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। এসময় গেরিলারা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করলে পাল্টা গুলিবর্ষণের মধ্যে দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী জবাব দেয়া শুরু করলে উভয়পক্ষের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ শুরু হয়। ওই ঘটনায় অজয় কুমার নামে নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য গুরুতরভাবে আহত হন। তাকে শ্রীনগর আর্মি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীকে পাঠানো হয়। যৌথবাহিনীর অভিযান চলাকালে সংঘর্ষে লতিফ গোজরি নামে আহত এক পুলিশ সদস্যকে আর্মি হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনি সেখানে মারা যান।

মঙ্গলবার রাত থেকে তারিক ভাট নামে এক পুলিশ সদস্য এ কে ৪৭ রাইফেলসহ নিখোঁজ হয়েছেন। মধ্য কাশ্মিরের বাডগাম জেলার পাখেরপোরা এলাকার একটি ফাঁড়িতে নৈশ প্রহরায় নিয়োজিত ছিলেন তারিক ভাট। রাত ৯ টা নাগাদ তিনি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও গুলিসহ নিরুদ্দেশ হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *