বনভূমি ধ্বংসের প্রকল্প: থাইল্যান্ডে ব্যাপক বিক্ষোভ

এশিয়া প্যাসিফিক লিড নিউজ

(ব্যাংকক, থাইল্যান্ড) বনভূমি ধ্বংস করে বিচারকদের জন্য বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করেছে থাইল্যান্ডের এক হাজারেরও বেশি নাগরিক। নির্মিতব্য এ প্রকল্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। ২০১৪ সালে দেশটির সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর রোববারের এই বিক্ষোভই সবচেয়ে বড় বলে মন্তব্য করেছে দ্য গার্ডিয়ান। দেশটির পুলিশ বলছে, উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং মাই এলাকায় এসব বিক্ষোভকারীরা শুধু পরিবেশগত ইস্যুতে জড়ো হয়েছিল, কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য সেখানে দেয়া হয়নি।

এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০১৪ সালে ক্ষমতা দখল করে নেয় থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী। তখন থেকেই একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গার্ডিয়ান লিখেছে, সেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতাও খর্ব করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি আদেশ এবং পুলিশ-সেনাবাহিনী ব্যবহার করে গণজমায়েত ঠেকানোর চেষ্টা করেছে থাই জান্তা সরকার।

গত কয়েকমাস ধরে দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে চিয়াং মাই এলাকায় বিচারকদের একটি আবাসন প্রকল্পের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবিতে বনভূমির অভ্যন্তরে দোই সুতিপ পার্বত্য এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণযজ্ঞের চিহ্ন দেখা যায়। আর এতেই নাগরিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। চিয়াং মাই এলাকার পুলিশের ধারণা, এক হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী রোববারের বিক্ষোভে সুশৃঙ্খলভাবে অংশ নেয়। ডেপুটি কমান্ডার কোল পাইসান বলেন, প্রায় সাড়ে বারোশো বিক্ষোভকারী শুধু পরিবেশগত বিষয়ই সামনে এনেছেন, রাজনীতি নয়। বিক্ষোভের পর সড়ক পরিস্কারও করেছেন তারা।

বিক্ষোভে সুবজ ফিতা বেধে অংশ নেন অনেকে। কারো গায়ে ছিল সবুজ রঙের গাউন। তারা দোই সুতিপ পার্বত্য এলাকার প্রকল্প বাতিলে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সরকারকে সাতদিনের মধ্যে এই দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের আহ্বানে সাড়া না দিলে আবারও বিক্ষোভ হবে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এ প্রকল্পের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। এ নির্মাণযজ্ঞকে বৈধ দাবি করে তারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন যে জমিতে এই আবাসন প্রকল্প বানানো হচ্ছে তাতে দোই সুতিপ পার্বত্য এলাকার ন্যাশনাল পার্কের সীমানার মধ্যে পড়ছে না। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া ওই নির্মাণ প্রকল্প প্রথম থেকেই পরিবেশকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে। স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের দাবি চিয়াং মাই বনভূমি থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের ‘প্রাকৃতিক ফুসফুস’ বিবেচিত হয়ে আসছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *