জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বিক্ষোভ ইসরাইলি হামলায় নিহত ৪৫ আহত ২ সহস্রাধিক

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

(জেরুজালেম, ফিলিস্তিন) জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিশাল ও নজিরবিহীন বিক্ষোভ করছে ফিলিস্তিনিরা। নিজেদের ভূমিতে মার্কিন দূতাবাস বসানোর বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্যে সোমবার এ বিক্ষোভ সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এ সময় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৪৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র ও কাঁদানে গ্যাসের আঘাতে আরও ২ সহস্রাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার গাজায় ইসরাইলের কাঁটাতারের সীমান্ত বেড়ার বাইরে কয়েকটি স্থানে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার তেল আবিবের পরিবর্তে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধন করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা যখন দূতাবাস সরানোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে, জেরুজালেমে চলে উদ্বোধন অনুষ্ঠান। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাস উদ্বোধন হলেও রোববার সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসব আয়োজনের একটি হচ্ছে এই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান। এতে যোগ দিতে মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসরাইলে পৌঁছেছে। ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মনুচিন এবং কংগ্রেসের ১২ সদস্য। এর মধ্যদিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র মূলত ফিলিস্তিনিদের রক্তের উপর দিয়ে মার্কিন দূতাবাস  উদ্বোধন করল।

সোমবার সকাল থেকেই অধিকৃত গাজা উপত্যকার  ইসরাইলের কাটাতারের বেড়ার বাইরে জড়ো হয়  ফিলিস্তিনিরা। স্লোগান স্লোগানে দূতাবাস সরানোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে তারা। তাদের অনেকেই ব্যাপক সজ্জিত কাটাতারের বেড়া  টপকানোর  চেষ্টা করে।  ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভে প্রায় লাখ খানেক ফিলিস্তিনি অংশ নেয়। স্থানীয় সাংবাদিক মারাম হুমাইদ আলজাজিরাকে বলেন, গত সাত সপ্তাহের বিক্ষোভের চেয়ে এই দিনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি ছিল। বিক্ষোভকারীদের টার্গেট করে তাজা গুলি, বোমা ও টিয়ারগ্যাস  ছোড়েঁ ইসরাইলি বাহিনী।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, আহত রোগীতে ভরে গেছে হাসপাতালগুলো। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুতর আহদের মধ্যে ৭৪ জন নারী শিশু।  এদের সবার বয়স ১৮ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে।

১৯৪৮ সালের ১৫ মে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে নিজ বাড়ি-ঘর থেকে উচ্ছেদ করে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফিলিস্তিনিরা দিনটিকে ‘নাকবা’বা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। এবার নাকবা দিবসে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে আন্দোলনের নেমেছেন ফিলিস্তিনিরা। গাজা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ বাসিন্দা ওই ঘটনায় বিতাড়িত হয়ে নিজেদের মাতৃভূমি হারিয়েছে। বর্তমানে শরণার্থীর জীবন কাটাচ্ছে তারা।

নাকবা দিবস ছাড়াও জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদ জানাতেও এই বিক্ষোভে অংশ নিতে ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ধারাবাহিকতায় দেশটি সেখানে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করছে। দূতাবাস স্থানান্তরের ঘটনায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আরও বেশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে পশ্চিম তীরের রামাল্লা ও হেবরন শহরে বিক্ষোভ হয়।

গত ৩০ মার্চ ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে শতাধিক  ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন সাড়ে ৯ হাজারের বেশি মানুষ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *