আইএসের পতনের পর ইরাকের প্রথম নির্বাচন: যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী জোটের জয়

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

(বাগদাদ, ইরাক) আইএসের পতনের পর ইরাকের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে দল নেতা নয়, শিয়া সুন্নি নয়, মার্কিন বিদ্বেষের জয় হয়েছে। দেশটির নির্বাচনের ফলাফল ও সাধারণ মানুষের জয়োল্লাসে সেই বিদ্বেষই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের পতনের পর ইরাকে গত শনিবার প্রথম কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের দুদির পর সোমবার ভোটের ফলাফল আসতে শুরু করে। মঙ্গলবার নির্বাচনী ফলাফল নাটকীয় মোড় লাভ করে।

ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদির দল ভাল ফলের প্রত্যাশা করলেও তার ভোটের হিসেবে তৃতীয় রয়েছে তার দল। অন্যদিকে অভাবনীয়  জয় পেয়েছে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিনবিরোধী হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় ধর্মীয় নেতা মোকতাদা আল সদরের নেতৃত্বাধীন জোট। মোকতাদার জোটের বিজয়কেই মার্কিন বিদ্বেষের বিজয় হেসেবে দেখা হচ্ছে। ভোট গণণা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরাকের নির্বাচন কমিশন। ইরান সমর্থিত শিয়া নেতা হাদি আল-আমিরির নেতৃত্বাধীন জোট দ্বিতীয়  স্থানে রয়েছে। দেশটির ১৮টি প্রদেশের সবগুলোর ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

যেহেতু আল-সদর এই নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না, সেহেতু তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না৷ তবে আগামী প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নে তার নিঃসন্দেহে একটি বড় ভূমিকা থাকবে৷ সাদ্দাম পরবর্তী জমানায় এবারই দেশটির সাধারণ নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের হার ছিল ৪৪.৫২ শতাংশ।

ডয়েচেভেলে জানায়, জনপ্রিয় শিয়া ধর্মীয় নেতা মোকতাদা আল-সদর ইরাকে মার্কিন দখলদারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে প্রচারে এসেছিলেন৷ এবার তিনি জনগণের ইরান সম্পর্কে অসন্তোষ থেকেও লাভবান হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে৷ ৪৪ বছর বয়সি আল-সদর হলেন একমাত্র ইরাকি নেতা, যিনি ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  উভয় শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন৷ এর ফলে ইরাকের দরিদ্র শিয়াপন্থিদের কাছে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। কেননা, সাধারণ জনগণ মনে করছে, তেহরান অথবা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরাক সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকে তারা নিজেরা বিশেষ লাভবান হননি৷ মোকতাদা আল-সদর স্বয়ং নিজেকে চিরকাল জাতীয়তাবাদী বলে বর্ণনা করে এসেছেন৷

যেমন সর্বহারা শিয়াপন্থি, তেমনই কোণঠাসা সুন্নিদের মধ্যে মোকতাদা আল-সদর জনপ্রিয়৷ অপরদিকে তিনি ইরাকের সুন্নি প্রতিবেশী, বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করে ইরাকে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কিছুটা রুখতে পেরেছেন৷ ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে লিপ্ত ছিল ইরাক আর ইরান৷ সেই সময় হতাহতের ঘটনা তো ঘটেছেই৷ তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে৷ হারাতে হয়েছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ৷

আল-সদর তার মাহদি সেনা নিয়ে দুদুবার ইরাকে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হন৷  ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর এক পর্যায়ে পেন্টাগন তাকে ও তার মাহদি সেনাকে ইরাকে নিরাপত্তার বৃহত্তম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল৷ আল-সদরের কর্তৃত্বের আরেকটি উৎস হচ্ছে তার পরিবারের সুনাম৷ তিনি গ্র্যান্ড আয়াতোল্লাহ মোহাম্মেদ সাদেক আল-সদরের সন্তান, যিনি সাদ্দাম হুসেনের বিরুদ্ধাচরণ করার জন্য নিহত হন৷

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *