সৌদি আরবের মরুভূমিতে আত্মঘাতী বোমা হামলার প্রশিক্ষণ আল কায়দার

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

(রিয়াদ, সৌদি আরব) সৌদি আরবে মানববোমা বানায় দুর্ধর্ষ জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়দা। দেশটির গহীন মরুভূমিতে আত্মঘাতি হামলার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। মরুভূমির গভীরে আল কায়দারে এসব প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেয় জঙ্গি গোষ্ঠীটির বহু তরুণ সদস্য। এ ধরনের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের বেশ কিছু ভিডিওচিত্র সৌদি গোয়েন্দা সংস্থা উদ্ধার করেছে। প্রশিক্ষণের সময় জঙ্গিরাই ভিডিওগুলো ধারণ করেছে। ভিডিওচিত্রগুলো নিয়ে ‘পাথ অব ব্লাড’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই ব্রিটেনের সিনেমা হলগুলোতে দেখানো হবে এটা। খবর রয়টার্সের।

প্রামাণ্যচিত্রটি তৈরি করেছেন বাফটা পুরস্কুরজয়ী সিনেমা নির্মাতা জোনাথান হ্যাকার। ভিডিও চিত্রগুলোর কয়েকটি দেখা যাচ্ছে, আত্মঘাতি হামলার নানা কলাকৌশল রপ্ত করছে জঙ্গি সদস্যরা। কৌশলগুলোর মধ্যে ‘হুইলব্যারো দৌড়’ বা চার হাত-পা ব্যবহার করে দৌড় প্রশিক্ষণ রয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটি প্রযোজনা ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা করছে ট্রিনিটি ফিলম। প্রামাণ্যচিত্রটির ব্যাপারে ট্রিনিটি ফিলম কর্মকর্তা বলেন,  ‘মুসলিম সন্ত্রাসীরা কিভাবে মুসলিম বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে এই প্রামাণ্যচিত্রে সেটাই দেখানো হয়েছে’।

এছাড়া আল কায়দা কিভাবে মানুষকে জঙ্গি দলে ভেড়ায় এবং আত্মঘাতি মিশনে পাঠানোর আগ পর্যন্ত  কিভাবে তাদের মগজ ধোলাই করে তা বিস্তারিত দেখানো হয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটিতে। আল কায়দার সদস্যরা কিভাবে রাজধানী রিয়াদের একটি গাড়ি পার্কিংয়ে হামলার ছক কষে তাও দেখানো হয়েছে উদ্ধার করা ভিডিওগুলোতে।

আল কায়দার প্রতিষ্ঠাতা সৌদি নাগরিক ওসামা বিন লাদেন ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে সৌদি আরবে আত্মঘাতি হামলার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে আল কায়দা।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার ১৬ বছর পর আল কায়দা জঙ্গিগোষ্ঠী ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তারা জানান, সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ছত্রচ্ছায়ায় পুনরায় আবির্ভাব ঘটেছে আল কায়দার। এছাড়া আরও নতুন নতুন নামে খণ্ডখণ্ডভাবে ফিরে আসতে পারে আল কায়দা। গত মাসে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ইদলিব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল হায়াত তেহরির আলশাম (এইচটিএস) নামের এক সুন্নিগোষ্ঠী। এটি নিশ্চিতভাবে আল কায়দার নতুন ‘ব্রান্ডিং’ গোষ্ঠী। ইতিমধ্যে তারা বিদ্রোহের আশা নিয়ে আইএসের চেয়ে বেশি আধুনিক ধাঁচে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে ফেলেছে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *