জেরুজালেমে ইসরাইল-আজেন্টিনা প্রীতিম্যাচ: মেসির জার্সি ও ছবি পোড়ানোর ডাক ফিলিস্তিনিদের

খেলা মধ্যপ্রাচ্য

(জেরুজালেম, ফিলিস্তিন) আগামী সপ্তাহে জেরুজালেমে অনুষ্ঠিতব্য ইসরাইলের বনাম আর্জেন্টিনার প্রীতিম্যাচকে কেন্দ্র করে ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ছবি ও জার্সির কপি পোড়ানোর ডাক দিয়েছেন ফিলিস্তিনের ফুটবল প্রধান। শনিবার রাতে দুই বারের বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনা জেরুজালেমের টেডি কলেক স্টেডিয়ামে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলবে। বিশ্বকাপের প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে আয়োজিত ম্যাচটিতে মেসির খেলার সম্ভাবনা থাকায় তা নিয়ে ইসরায়েলিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। ডেইলি মেইল এ খবর দিয়েছে।

জেরুজালেমে ইসরাইলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই ম্যাচ নিয়ে ফিলিস্তিনিরা ক্ষুব্ধ। গত সপ্তাহে একটি চিঠিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জেরুজালেমের ম্যাচটি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধান জিবরিল রাজৌব। তিনি এই ম্যাচকে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

রবিবার রাজৌব আর্জেন্টিনা ও মেসির বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। আরব, ইসলামি বিশ্ব, এশিয়া ও আফ্রিকায় মেসির অসংখ্য ভক্তের কথা উল্লেখ করে তিনি এই প্রচারণার ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্টভাবে মেসিকে টার্গেট করতে চায় কারণ মেসি এখানে সবচেয়ে বড় প্রতীক।

রামাল্লায় আর্জেন্টিনার প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের রাজৌব বলেন, তিনি একজন বড় প্রতীক। আমরা তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করব। আমরা তার জার্সি ও ছবি পোড়ানো এবং তাকে পরিত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

এসময় তরুণ ফিলিস্তিনিদের একটি দল কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ করে এবং আর্জেন্টিনার পতাকায় আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। টেডি স্টেডিয়ামটি যে ভূমিতে নির্মাণ করা হয়েছে একসময় সেখানে একটি ফিলিস্তিনি গ্রাম ছিল। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল গ্রামটি দখল করে ধ্বংস করে দেয়।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি লঙ্ঘন করে ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের একক রাজধানীর স্বীকৃতি দেন। বিশ্বজুড়ে নিন্দা আর তুমুল প্রতিবাদের মধ্যেও দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যেই ১৪ মে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই দিন ইসরাইলি গুলিতে নিহত হন অন্তত ৬০ জন ফিলিস্তিনি।

ইহুদি-খ্রিস্টান ও মুসলিম; তিন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থস্থান জেরুজালেমে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয় না বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ ও জাতিসংঘ। ফিলিস্তিনের অধিকাংশ অধিবাসী পূর্ব জেরুজালেমকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করেন। এমনকি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে জেরুজালেমের স্ট্যাটাস খুবই স্পর্শকাতর বিষয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *