দক্ষিণ সুদানে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী নিহত, জাতিসংঘ মহাসচিবের শোক প্রকাশ

বাংলাদেশ লিড নিউজ

দক্ষিণ সুদানে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলায় এক বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। নিহত শান্তিরক্ষীর নাম লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশরাফ সিদ্দিকী বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড ন্যাশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (ইউএনএমআইএসএস)। মঙ্গলবার সুদানের পশ্চিমাঞ্চলে ইয়ে ও লাসু শহরের মধ্যবর্তী অঞ্চালে এ হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ওই গাড়িবহরটি দেশটির কেন্দ্রীয় ইকুয়টোরিয়া প্রদেশে মানবিক ত্রাণ সরবরাহে সহায়তার কাজে নিয়োজিত ছিল।এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। ইউএন নিউজ এ খবর দিয়েছে।

ইউএনএমআইএসএসের মুখপাত্র বলেছেন, নেপালি শান্তিরক্ষীদের একটি ইউনিটের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। দেশটির ইয়েই এলাকা থেকে লাসু যাওয়ার পথে তাদের ওপর হামলা হয়। অজ্ঞাত অস্ত্রধারীরা তাদের গাড়িবহরের ওপর বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।এ সময় বাংলাদেশী ওই শান্তিরক্ষীর গুলি লাগে এবং অল্প সময় পরেই তিনি মারা যান।

ইউএনএমআইএসএসের প্রধান ও জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ডেভিড শিয়ারার বলেছেন, সহিংস হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এটা একটি ট্রাজেডি। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানষদের জীবন বাচাতে ও অন্যদের সহায়তার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। শান্তিরক্ষী ও ত্রাণকর্মীদেরকে তাদের কাজ মুক্তভাবে ও নিরাপত্তার সঙ্গে করতে দেয়া উচিত। আমরা যেমনটা দেখেছি তেমনটা কা-জ্ঞানহীনের মতো ঘটনা আর ঘটা উচিত নয়।

হত্যার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক সংস্থার সদর দফতরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশরাফ সিদ্দীকী ত্রাণের একটি গাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই সময় অজ্ঞাত বন্দুকধারীর অতর্কিত গুলিতে তিনি মারা যান। এরপরই নেপালি শান্তিরক্ষী বাহিনী পাল্টা গুলি শুরু করলে হামলাকারীরা বনের মধ্যে পালিয়ে যায়।

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। দুজারিক বলেন, মহাসচিব নিহতের পরিবার ও বাংলাদেশের সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে সাংবিধানিক যুদ্ধাপরাধ হিসেবে মনে করিয়ে দেন মহাসচিব। তিনি দক্ষিণ সুদানের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করে যাওয়া সব সাহসী নারী-পুরুষের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা জাতিসংঘের অধীনে বিভিন্ন দেশে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখে চলেছে। ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরান শান্তি মিশনে যোগদানের মধ্য দিয়ে এদেশের সেনাবাহিনীর ১৫ জন সদস্য জাতিসংঘের পতাকাতলে একত্রিত হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী শান্তি মিশনে যোগ দেয় ১৯৯৩ সালে। বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ পরিবারের সদস্য হয় নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে।

বিশ্বের অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় এলাকায় শান্তি স্থাপনে বাংলাদেশ আজ এক আস্থার প্রতীক। আর এই সুনাম অর্জন করেছেন বাংলাদেশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৫ জন শান্তিরক্ষী কর্মী। এদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৩২ হাজার ৬১৮ জন এবং পুলিশের ১৬ হাজার ৯৬৭ জন সদস্য রয়েছেন।

৪০টি দেশের ৫৪টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ থেকে শান্তিরক্ষীরা অংশগ্রহণ করেছে। এদের মধ্যে জীবন উত্সর্গ করেছেন ১৩২ জন। এদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ১১২ জন এবং পুলিশের ২০ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ২১১ জন। আহতদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ২০১ জন এবং পুলিশের ১০ জন সদস্য রয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের ৬ হাজার ৯২৭ জন শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও ১২টি দেশে নিয়োজিত রয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *