ইইউ ভাঙার ষড়যন্ত্রে ট্রাম্প: ওয়াশিংটন পোস্ট

আমেরিকা লিড নিউজ

(ওয়াশিংট, যুক্তরাষ্ট্র) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভাঙার ষড়যন্ত্র করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। শুরু থেকে প্রায়ই সংস্থাটিকে আক্রমণ করে সমালোচনা করে আসছেন তিনি। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে।

সম্প্রতি ইউরোপ থেকে আমদানি করা বেশ কিছু পন্যের ওপর শুল্কারোপ করে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় ইউরোপের নেতাদের ইইউ ছাড়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি।

আগামী মাসেই ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ইউরোপ যাবেন ট্রাম্প। সম্মেলন শেষে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিক এক বৈঠকে বসবেন তিনি। এর আগেই ইইউ ও ন্যাটোর মতো পশ্চিমা বিশ্বের আরও কয়েকটি সংস্থাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে সমালোচনা করছেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এই  আক্রমণাত্মক সমালোচনা মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে সম্পর্ক ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট চানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে ম্যাক্রোর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোকে ইইউ ছাড়ার জন্য কুপরামর্শ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  ট্রাম্প ইইউ ছাড়ার বিনিময়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টকে বেশি বাণিজ্যিক সুবিধা দেয়ার কথা বলেন। হোয়াইট হাউসে ম্যাক্রোর সঙ্গে বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনা করার সময় ট্রাম্প এ প্রস্তাব দেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ট্রাম্প ম্যাক্রোকে বলেন, ‘আপনি কেন ইইউ ছাড়ছেন না?’  ট্রাম্প বলেন, যদি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইইউ ছাড়েন তাহলে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় তিনি প্যারিসকে বেশি সুবিধা দিয়ে বাণিজ্য চুক্তি করবেন। ইইউর দুই কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের এ খবর অস্বীকার করে নি হোয়াইট হাউস।  তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যও করে নি। ট্রাম্পের এ প্রস্তাবে যে বিষয়টি প্রকাশ হয়েছে সেটা হচ্ছে, ইইউর ব্যাপারে ম্যাক্রোর দৃষ্টিভঙ্গি ও যাদের ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন সেই মার্কিন জনগণের চাওয়া কি তা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে  সরকারের নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে ইইউর মতো একটি মার্কিন মিত্রকে ভাঙতে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব এক নজিরবিহীন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারণা থেকে প্রকাশ্যেই ইইউ আর ইইউ সামরিক জোট ন্যাটোর বিরুদ্ধে কামান দেগে চলেছেন ট্রাম্প। তবে সম্প্রতি তার এ আক্রমণাত্মক সমালোচনার গতি ও প্রকৃতি দুইই বেড়েছে। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটায় এক সমাবেশে যোগ দেন তিনি। এই সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ইইউ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের ব্যাংকগুলোকে লুটে নিতে’। এ সময় ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দেড় হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। প্রতিবেদন মতে, বাণিজ্য ঘাটতির এ পরিসংখ্যান বাড়িয়ে বলেছেন তিনি।

সম্প্রতি কানাডায় হয়ে গেল জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে নাফটা চুক্তির সমালোচনা করে সংস্থার নেতাদেরকে ট্রাম্প বলেন, ‘নাফটার মতোই বাজে চুক্তি ন্যাটো’। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের সঙ্গে এক বৈঠকের সময় তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো চুক্তি ত্যাগ করা উচিৎ।’ ইউরোপ মহাদেশের অধিকাংশ দেশের একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট হচ্ছে ইইউ। এর অধীনে অভিন্ন মূদ্রা (ইউরো), ইউরোপীয় সংসদ রয়েছে। যুক্তরাজ্য বের হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমানে সদস্য রাষ্ট্র সংখ্যা ২৭।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *