কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান পাঁচ দিনের রিমান্ডে, আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার ঘোষণা

বাংলাদেশ লিড নিউজ

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক রায়হানুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।  বাংলা ট্রিবিউন এ খবর দিয়েছে।

রবিবার সকালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক আল-নাহিয়ান খান জয় বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে রাশেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (উপপরিদর্শক) সজিবুজ্জামান রাশেদকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করেন।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী জাহিদুর রহমান জাহিদ ও নুর উদ্দিন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন।

১ জুলাই সকালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক আল-নাহিয়ান খান জয় বাদী হয়ে শাহাবাগ থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে আল-নাহিয়ান খান জয় বলেন, রাশেদ খান ফেসবুক লাইভে এসে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। এছাড়া ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছিল। রাশেদ নিজে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তাকে তুলে নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন। এরূপ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করায় জনমনে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে।

কোটা আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার ঘোষণা

কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘হয়রানির শিকার’ আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন একদল আইনজীবী। সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থিত ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন এমন ঘোষণা দেয়া হয়। খবর প্রথম আলোর।

এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনগত সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ২০ জন আইনজীবী সম্মিলিতভাবে নিজ খরচে এই আইনগত সহায়তা দেবেন। সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী হাসনাত কাইয়ূম, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের মধ্যে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, যারা গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্কে আছেন। তাঁরা চাইলে তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। ২০ জন আইনজীবী নিজ খরচে এই আইনি সহায়তা দেবেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে সে ক্ষেত্রেও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *