২৯৮ যাত্রীসহ ইরানি বিমানটি যেভাবে ধ্বংস করে যুক্তরাষ্ট্র

এশিয়া প্যাসিফিক লিড নিউজ

১৯৮৮ সালের ৩ জুলাই ইরানের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মুহূর্তেই নিভে যায় ২৯৮ যাত্রীর প্রাণ। নিহতদের মধ্যে ৬৬টি শিশু ও ৫৩ জন নারী ছিল। বিদেশি নাগরিক ছিল ৪৬ জন।

ইরানি বিমান ধ্বংসের ওই ঘটনার ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কীভাবে এবং কেন ইরানি বিমানটি ধ্বংস করা হয়েছিল তা ওই অনুষ্ঠানে জানানো হয়।ঘটনার দিন পারস্য উপসাগরে ইরান উপকূলের সমুদ্রসীমায় ঢুকে ‘ভিনসেন্স’ নামের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ওই হামলা চালানো হয়েছিল।

ওই সময় ইরানের সঙ্গে ইরানের তুমুল যুদ্ধ চলছিল। পশ্চিমা মদদে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে পরাজিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে উপনীত সাদ্দাম হোসেনকে রক্ষা করতে ইরানি ওই যাত্রীবাহী বিমানটি ভূপাতিত করা হয়।

ইরানের বন্দর নগরী ‘বন্দর আব্বাস’ থেকে ইরান এয়ারের ৬৫৫ নম্বর ফ্লাইটের মাধ্যমে দুবাই যাওয়ার জন্য ওই বিমানে উঠেন ২৯৮ জন নিরপরাধ মানুষ।কিন্তু বিমানটি আকাশে উড়ার কিছুক্ষণ পরই মার্কিন এস ভিনসেন্সের ক্যাপ্টেন ইরানের ওই বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর আদেশ দেন।

ক্যাপ্টেনের আদেশ পেয়েই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মুহূর্তে বিমানটি আকাশেই বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি যখন ধ্বংস হয় তখন তার ভেতরে ৫৩ জন নারীর কোলে ছিল তাদের শিশুসন্তানরা।ওই সময় বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। কিন্তু মার্কিন নেতারা এ নিয়ে কোনো দুঃখ করেনি বরং তারা ওই অপরাধের পক্ষে সাফাই গায়।

মার্কিন সরকার দাবি করে, ভুলক্রমে ঘটনাটি ঘটেছে। তারা যাত্রীবাহী বিমানটিকে ভুল করে ইরানের বিমানবাহিনীর এফ-১৪ জঙ্গিবিমান ভেবেছিল। পরবর্তীতে জানা যায়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের যেই সেনাকে যাত্রীবাহী ইরানি বিমান টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে বলা হয়েছিল সে প্রথমে ওই অমানবিক নির্দেশ শুনে হতবাক হয়ে গিয়েছিল।

জাহাজের সবার কাছেই এটা স্পষ্ট ছিল যে, ইরানি বিমানটি ছিল একটি যাত্রীবাহী বিমান এবং তাই সে ওই নির্দেশ মানতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু এরপর যখন তাকে সামরিক আদালতে বিচার করার হুমকি দেয়া হয় তখন সে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ পালন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *