ভিনদেশী ড্রাগন ফল

অন্যান্য

ড্রাগন ফলের গাছ এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় গাছ। লতানো এই গাছে নেই কোনো পাতা। পাকা ফলের শাঁস খুব নরম ও ভেতরে কালো জিরার ন্যায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য বিচি থাকে। ড্রাগন ফল খেতে হালকা মিষ্টি ও দারুন পুষ্টিকর।ক্যালোরি খুব কম থাকার কারনে এই ফল ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীরা অনায়াসেই খেতে পারেন। নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাই এই ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উত্তম। শাঁস পিচ্ছিল হওয়ায় এই ফল খেলে কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর হয়।

অন্যান্য দেশের মতো আজকাল বাংলাদেশের বাজারে ড্রাগন ফলের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। অনেকের নিকট এই ফল পরিচিত না হলেও ধীরে ধীরে এর পরিচিতি ও পুষ্টিগুন বিস্তার লাভ করছে। ভিনদেশী ড্রাগন ফল ইদানিং বাংলাদেশের মাটিতেও ফলানো হচ্ছে। ড্রাগন ফলের উৎপত্তিস্থল সেন্ট্রাল আমেরিকায় হলেও ভিয়েতনামে এই ফল সব থেকে বেশি বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করা হয়ে থাকে।

গাছ ও ফলের বর্ণনা–

ড্রাগন ফলের গাছ এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় গাছ। প্রথম দেখাতে একে ক্যাকটাস মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। এই গাছ লতানো কিন্তু গাছের কোন পাতা নেই। ড্রাগন ফলের গাছ সাধারনত ১.৫ থেকে ২.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

এতে ফুল হয় সাদা রঙের, দেখতে অনেকটা নাইট কুইন ফুলের মতো। এই ফুল রাতের বেলা ফোটে, ফুলে রয়েছে দারুন সুগন্ধ। ড্রাগন ফুলকে বলা হয়ে থাকে মুন ফ্লাওয়ার বা কুইন অব দা নাইট। ফুল থেকে লাল রঙের ডিমের আকৃতির ফল গঠিত হয়। ড্রাগন ফলের খোসা বেশ নরম হয়ে থাকে। এক একটি ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাকা ফলের শাঁস খুব নরম ও ভেতরে কালো জিরার ন্যায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য বিচি থাকে। ড্রাগন ফল খেতে হালকা মিষ্টি ও দারুন পুষ্টিকর। ড্রাগন ফল সাধারনত দুই রকম স্বাদের হয়ে থাকে- টক স্বাদের ও মিষ্টি স্বাদের। মিষ্টি স্বাদের ড্রাগন ফল আবার তিন প্রজাতির হয়ে থাকে।

  • ১) লাল ড্রাগন ফল বা পিটাইয়া। এর খোসার রঙ লাল ও শাঁস সাদা। এই প্রজাতির ফলই বেশি দেখতে পাওয়া যায়।
  • ২) কোস্টারিকা ড্রাগন ফল। খোসা ও শাঁস উভয়ের রঙই লাল।
  • ৩) হলুদ রঙের ড্রাগন ফল। এই জাতের ড্রাগন ফলের খোসা হলুদ রঙের ও শাঁসের রঙ সাদা।

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ–

প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলের প্রায় ৫৫ গ্রামই খাওয়ার যোগ্য। প্রতি ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফল থেকে আমরা পাই– পানি–৮০-৯০ গ্রাম প্রোটিন-০.১৫–০.৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট–৯–১৪ গ্রাম চর্বি–০.১–০.৬ গ্রাম আঁশ–০.৩–০.৯ গ্রাম ক্যালসিয়াম–৬-১০ মিলিগ্রাম আয়রন–০.৩–০.৭ গ্রাম ফসফরাস–১৬-৩৬ মিলিগ্রাম নায়াসিন–০.২–০.৪৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি–৪-২৫ মিলিগ্রাম

ড্রাগন ফলের উপকারিতা–

  • -ড্রাগন ফলে ক্যালোরি খুব কম থাকার কারনে এই ফল ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীরা অনায়াসেই খেতে পারেন।
  • -ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি বেশি থাকার ফলে এই ফল খেলে আমাদের শরীরের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হয়। লাল শাঁসের ড্রাগন ফল থেকে বেশি পরিমানে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
  • -আয়রন থাকার কারনে এই ফল খেলে রক্ত শূন্যতা দূর হয়।
  • -নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই এই ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উত্তম।
  • – ড্রাগন ফলের শাঁস পিচ্ছিল হওয়ায় এই ফল খেলে কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর হয়।
  • – ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমানে পানি থাকার কারনে এই ফল খেলে শরীরের পানি শূন্যতা সহজেই দূর হয় ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *