আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত: মিয়ানমারকে জাতিসংঘ কমিশন

পূর্ব এশিয়া লিড নিউজ

(নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র) দায়িত্ব ছাড়ার আগে শেষ বক্তব্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের তীব্র সমালোচনা করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেন। চার বছরের দায়িত্ব পালনকালে  তার দেখা নিপীড়নের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত মানাবাধিকার অপরাধকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্টসম্পন্ন আখ্যা দিয়েছেন তিনি। রাখাইনে সংঘটিত নিপীড়ন হত্যাযজ্ঞসহ যাবতীয় ধারার মানবতাবিরোধী অপরাধে সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে বলেছেন তাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সন্ত্রাসবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের নামে শুরু হয় নিধনযজ্ঞ। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে থাকে ধারাবাহিকভাবে। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ।

পুড়িয়ে দেয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশতে থাকে মৌসুমী বাতাসে। মানবাধিকার সংগঠনের স্যাটেলাইট ইমেজ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন আর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে শূন্যে ছুড়তে থাকে সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হয় তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় মানুষকে। এমন বাস্তবতায় নিধনযজ্ঞের বলি হয়ে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় অন্তত সাত লাখ রোহিঙ্গা। সে কারণেই সম্ভবত; অনেক কষ্ট সত্ত্বেও মিয়ানমারের চেয়ে এ শিবিরকেই নিরাপদ জায়গা মনে করেন রোহিঙ্গারা।

জায়েদ বলেন, ‘আমি চার বছর ধরে হাইকমিশনারের দায়িত্বপালন করছি। অনেক নিপীড়ন দেখেছি। কিন্তু এটা একদমই নতুন। আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত স্যার। আমরা বোকা নই।’

মানবাধিকার পরিষদের ৩৮তম অধিবেশনের পর আর কোনও বৈঠক হচ্ছে না। দায়িত্ব ছাড়ার আগে এটাই জায়েদ হোসেনের শেষ বক্তব্য। তিনি বলেন, জাতিসংঘের যদি কোনও সদস্য রাষ্ট্র যদি তিনদিনের সহিংসতায় ৭ লাখ মানুষকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় এবং মেন কোনও আন্তর্জাতিক চাপ না আসে, তবে এই রুমে থাকা বাকিরাও এমনটা করতে পারে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে একটি উদাহরণ টেনে হাই কমিশনার বলেন, জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝে ৫৮ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত গেছে এবং তাদের বিভিন্ন অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপতি তাদের ক্ষমা করলেও বুথিয়াডংকারাগারে পাঠানো হয় তাদের। একেই বলা হচ্ছে ‘রিসিপশন সেন্টার’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *