কোটা আন্দোলনে ’নিপীড়নের বিরুদ্ধে পদযাত্রা’ ৮ জুলাই

বাংলাদেশ

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পদযাত্রার উদ্যোগ নিয়েছে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকেরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাসের বাইরে সাম্প্রতিক নিপীড়ন, গ্রেফতার, সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে আগামী রবিবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টায় এ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

‘নিপীড়নমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চাই’ এই দাবিতে এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক সামিনা লুৎফা সহ নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকবৃন্দ। যে দুই জায়গায় নিপীড়নের বড় ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার একটি ঢাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এই পদযাত্রা শেষ হবে।

ফেসবুকে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে পদযাত্রা’ নামে একটি ইভেন্ট খোলা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে,  কোটাসংস্কার আন্দোলন নিয়ে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সাধারণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থিদের উপর ক্রমাগত সহিংস হামলা, মিথ্যা মামলা ও আহত ছাত্রদের চিকিৎসার অধিকার প্রত্যখ্যাত হবার ঘটনাগুলো আমাদের শঙ্কিত করে তুলেছে।

আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে শিক্ষার্থি ও শিক্ষকদের স্বাধীন মতামত প্রকাশ, আত্মমর্যাদা এবং জীবনের নিরাপত্তা আরও সঙ্কুচিত করে তুলেছে বলেই আমরা মনে করি। পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা গেলেও হামলাকারীদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ’র নির্লিপ্তি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সরাসরি দায়িত্ব অস্বীকার আমাদের হতবাক করেছে।

ইভেন্টের বিবরণে আরও লেখা হয়েছে, ‘গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আন্দোলনকারীদের পুর্বঘোষিত প্রেস কনফারেন্সের জমায়েতের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালায়। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। পরের দিন ওই হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনকারীরা জমায়েত হলে সেখানেও ছাত্রলীগ দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা চালায়। ধারাবাহিক এই শিক্ষার্থি নিপীড়নের প্রতিবাদে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক সমাবেশেও পুলিশের হামলা হয় এবং সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন অভিভাবককে লাঞ্ছিত করা হয়।’

ইভেন্টের বিবরণে আরো লেখা হয়েছে, ”পুলিশ ও ছাত্রলীগের আগ্রাসী আচরণ এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যে, আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা মামলা-হামলার ভয়ে তাদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার যেন হারিয়ে ফেলেছে। বস্তুত, শিক্ষক ও শিক্ষার্থিদের ওপর একধরনের নীরব নির্যাতন ও নজরদারি চলছে। চারদিকে একটা ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, ‘এসব ঘটনা প্রকারান্তরে হামলাকারীদেরকে আরও উৎসাহিত করেছে বলে আমরা মনে করি। এর বিরুদ্ধে সচেতন শিক্ষকদের সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি এবং ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের এই পদযাত্রায় অংশ নেবার আহবান জানাই।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *