পরিবার পরিকল্পনা নীতি বাতিল করছে চীন

চীন

(বেইজিং, চীন) ‘এক সন্তান নীতিতেই’ প্রায় ৩৫ বছর পার করছে চীন। একের সমস্যাগুলো অনুধাবনের পর ‘দুইয়ে’অর্থাৎ ‘ছেলে হোক মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ঠ’ স্লোগান নিয়ে আসে দেশটি। তবে দেশটির সিদ্ধান্ত, দুইয়েই দাড়ি নয়। সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে সংখ্যার বাধা একেবারেই তুলে দিচ্ছে। পরিবার পরিকল্পনাই বাতিল করছে বেইজিং। এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ বছরের বাধ্যবাধকতা উঠে যাচ্ছে। ফল এখন যারা বিয়ে করছেন, যত খুশি সন্তান নিতে পারবেন তারা। মঙ্গলবার এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

খবরে বলা হয়, জনসংখ্যা নীতি থেকে সরে আসতে যাচ্ছে চীন। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলি জানিয়েছে, কেবল এক সন্তান নীতিই নয় বরং পুরো পরিবার পরিকল্পনা নীতিটিই বাদ দেয়া হচ্ছে। সোমবার দেশটির শীর্ষ কয়েকজন আইনপ্রণেতা একটি সিভিল কোডের খসড়া জমা দিয়েছেন। খসড়া সিভিল কোডে ‘শান্ত আচরণ করার’ একটি বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, যারা বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেছেন তাদেরকে সেই আবেদন প্রত্যাহারের জন্য এক মাসের সময় দেয়া হবে।

২০২০ সালের মার্চে চীনের পার্লামেন্টের বার্ষিক অধিবেশনে এই খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। জনসংখ্যার ক্ষেত্রে ১৯৭৯ সাল থেকে এক সন্তান নীতি অনুসরণ করে আসছে চীন। তবে জনসংখ্যা কমে যাওয়া, জন্মহার হ্রাস ও শ্রমিকের সংখ্যা হ্রাসের কারণে ২০১৫ সালে এক সন্তান নীতি থেকে সরে আসে চীন। ওই সময় জানানো হয় নগর এলাকাগুলোতে দম্পতিরা চাইলে দু’টি সন্তান নিতে পারবেন।

প্রায় ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রাচ্যের বিশাল আয়তনের দেশ চীন। অব্যাহতভাবে বেড়ে যাওয়া জনসংখ্যার চাপ কমানো এবং পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার হ্রাসে ১৯৩৯ সালে এক সন্তান নীতি গ্রহণ করে দেশটি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ নিয়ে দেশটির জনগণ আপত্তি তুলতে থাকে। ২০১৫ সালে দীর্ঘদিনের এক সন্তান নীতি তুলে দিয়ে দুই সন্তান নীতি চালু করা হয়।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *