‘মালয়েশিয়ার রাবার ছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারাত বিশ্বের জনসংখ্যা’

এশিয়া প্যাসিফিক

(কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া) উঠতি মালয়দের ‘রসিক দাদু’ প্রধানমন্ত্রী মাহথির মোহাম্মদের ৯২ বছর বয়সেও রসিকতার ঝোঁক এতটুকু কমেনি। মিছিল মিটিংয়ে তো করেনই এবার আন্তর্জাতিক ফোরামেও রসের ফোঁড়ন কাটলেন মাহাথির। রাবারবিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রাবার ছাড়া বিশ্বের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতো। এ কথায় উচ্চ হাসিতে ফেটে পড়েন উপস্থিত শ্রোতারা।

মালয়েশিয়ার রাবার দিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণের সামগ্রি কনডম তৈরি করা হয়। আর সেই কনডম দিয়ে বিশ্বের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মাহাথির মোহাম্মদ সেদিকটিতে ইঙ্গিত দিয়ে ওই মন্তব্য করেন। মালয়েশিয়ায় হচ্ছে ৯ম ইন্টারন্যাশনাল রাবার গ্লাভস কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০১৮।মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় ওই সম্মেলন।

এর উদ্বোধনী বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। ড. মাহাথির এ সময় বলেন, মালয়েশিয়ার ক্রমবর্ধমান রাবার শিল্প বিশাল অবদান রেখে যাচ্ছে। তা শুধু যে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে তা-ই নয়, একই সঙ্গে মানবতার সেবা করছে।  সুর একটা হালকা করে তিনি বলেন, রাবার গ্লাভস অসংখ্য মানুষের জন্ম থামিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কনডম ছাড়া বিশ্বকে কল্পনা করুন। যদি বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭০০ কোটি হয় তাহলে কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে তা অল্প সময়ের মধ্যে ১০০০ কোটিতে পৌঁছে যেত। তাই আবারও বলি, রাবার মানবতার সেবায় বিরাট এক অবদান রেখে যাচ্ছে। তার এ বক্তব্য দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতাদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। হাততালি দিয়ে তারা মাহাথিরকে অভিনন্দন জানান।

৪ঠা সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের এই সম্মেলন। এর আয়োজক মালয়েশিয়ান রাবার গ্লাভস ম্যানুফ্যাকচারারস এসোসিয়েশন। এতে যে প্রদর্শনী হচ্ছে তাতে অংশ নিয়েছে ১৪টি দেশ। আর সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে ৮০০ জন। এতে ১০ হাজার ব্যবসায়ী সেখানে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়া থেকে যত রাবারের পণ্য গত বছর রপ্তানি করা হয়েছে তার মধ্যে শতকরা ৭৩.২ ভাগই রাবার গ্লোভ। এ জন্য এখাতে যারা গবেষণা ও উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত আছেন তাদেরকে আলাদা করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, রাবার শিল্প অব্যাহতভাবে নতুন নতুন পণ্য তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে অপারেশনে ব্যবহৃত সার্জিকেল গ্লোভস থেকে শুরু করে রাবারের টায়ার।

সম্ভাবনাময় এ বৃক্ষ নিয়ে আরও গবেষণার আহ্বান জানান মাহাথির। তিনি বলেন, যেসব গাছ মালয়েশিয়ায় আছে অথবা সেখানে জন্মানো যাবে এমন গাছ নিয়ে গবেষণা করতে হবে। যাতে তা থেকে নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন করা যায়। এ শিল্পকে তিনি নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, তার প্রশাসন হবে ব্যবসাবান্ধব। এসব শিল্পকে সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *