রোহিঙ্গা গণহত্যা: আইসিসির বিচারিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আসিয়ান এমপিরা

ইউরোপ লিড নিউজ

(জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া) রোহিঙ্গা গণহত্যায় মিয়ানমারকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আসিয়ানের এমপিরা। একইসঙ্গে গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গাদের পক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সম্মিলিত পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার আসিয়ানের ১৩২ এমপির পক্ষে এক বিবৃতিতে আইসিসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের (এপিএইচআর)  চেয়ারম্যান চার্লস সান্টিয়াগো। খবর ইউএনবির।

বৃহস্পতিবার আইসিসির এক রায়ে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদা রোহিঙ্গা বিতাড়ন নিয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার আইসিসির আছে কিনা, তা জানতে চেয়ে একটি শুনানি আয়োজনের আবেদন করেন৷ তার এ আবেদন অনুসারে, চলতি শুনানির আয়োজন করে আইসিসি। এই শুনানিতে অংশ নেয়া বেশিরভাগ আইনজীবী আইসিসির তদন্ত করার এখতিয়ার আছে বলে মত দেন৷

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা ও বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে আইসিসির এ রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন আসিয়ান এমপিরা। এমপিদের পক্ষে আসিয়ান মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান ও মালয়েশিয়ার এমপি চালর্স সান্টিয়াগো বলেন, মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে এই রায় একটা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে দোষীদের বিচারের প্রক্রিয়ায় আমাদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।  তিনি বলেন,  বিচার নিশ্চিত করতে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।

সান্টিয়াগে আরও বলেন,  রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিচারের লক্ষ্যে আইসিসির পাশাপাশি আমাদেরকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার সহায়তা নিতে তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌশলী আদালতের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, রোহিঙ্গাদের যেভাবে মিয়ানমার থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে সেটির তদন্ত করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে কিনা। সেই প্রেক্ষিতে আইসিসি’র প্রি-ট্রায়াল চেম্বার রায় দেয়,  মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য না হলেও রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের কারণে ঘটনার একটি অংশ বাংলাদেশে সংগঠিত হয়েছে। ফলে আইসিসি মনে করে, রোম সনদ অনুযায়ী ঘটনার তদন্ত করার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে।

এ রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌশলী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে আদালত জানিয়েছে যে এ ধরনের তদন্ত একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসের প্রথম দিকে বিষয়টি নিয়ে আইসিসি বাংলাদেশের মতামত জানতে চায়। বিচারের পক্ষে মত দেয় ঢাকা। একই সময়ে মিয়ানমারের কাছে বিষয়টি জানতে চেয়ে চিঠি পাঠায় আইসিসি। ২৭ জুলাই-এর মধ্যে তাদেরকে চিঠির জবাব দিতে বলা হয়। ৯ অগাস্ট মিয়ানমারের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়,  আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের উদ্যোগ এখতিয়ার বহির্ভূত।

এর ১১ দিনি পর ২৭ আগস্ট জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের এক প্রতিবেদনে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞকে প্রথমবারের জন্য গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। একইসঙ্গে গণহত্যার তদন্ত করে দোষী মিয়ানমার সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংসহ শীর্ষ ছয় জেনারেলকে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে বিচারের সুপারিশ করা করা হয়। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের সভায় সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *