কাশ্মীরকে তিন টুকরো করার ছক মোদির

ভারত লিড নিউজ

(কাশ্মীর, শ্রীনগর) কাশ্মীরকে গত সাত দশক ধরে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতিতে শাসন ও শোসণ করে আসছে ভারত। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকায়িত এলাকা এটি। ভারতবিরোধী স্বাধীনতাকামীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাতে প্রায় ৭ লাখ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ১৯৯০-এর দশক থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন সশস্ত্র রুপ নেয়। তখন থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছে এক লাখেরও বেশি। নিহত হয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার। গুম হয়েছে আরও ১০ হাজার। ভারতের কাশ্মীর শাসনের এই চলমান নীতিকে এবার আরও একধাপ এগিয়ে নেয়ার পায়তারা করছে মোদি সরকার। কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ বাতিল চেষ্টার পাশাপাশি এর মানচিত্রই বদলে দিতে চলেছে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। সেই লক্ষ্যেই দেশটির এই অঞ্চলকে তিন টুকরো করার ছক কষছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে জম্মুভিত্তিক পত্রিকা আর্লি টাইমস সম্প্রতি এ খবর জানিয়েছে।

পত্রিকাটি জানায়, কাশ্মীরকে ভেঙে জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ-এ তিনটি পৃথক পৃথক রাজ্য গঠন করবে মোদি সরকার। এই পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষমতার প্রথম মেয়াদের মধ্যেই অর্থাৎ ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগেই ‘কাশ্মীর সমস্যা’র সমাধান চান মোদি। এ ব্যাপারে আগামী দুই এক মাসের মধ্যে নিজেই ঘোষণা দিতে পারেন তিনি।

ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ৩৫(এ) ও আর্টিকেল ৩৭০ ধারায় কাশ্মীরকে ‘বিশেষ মর্যাদা’ দেয়া হয়েছে। ৩৫(এ) ধারা বলে রাজ্যটিতে একমাত্র কাশ্মীরিরাই ভূ-সম্পত্তির মালিক হওয়ার অধিকারী। কাশ্মীর রাজ্যসভাকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে ৩৭০ ধারা।বিজেপি সরকার জানে, কাশ্মীরে তারা এককভাবে সরকার গড়তে পারবে না। এক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স বা পিপল’স ডেমোক্রেটিক  পার্টির (পিডিপি)ওপর নির্ভর করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করবে না সরকার। বিপরীতে পুরো অঞ্চলকেই ভেঙে টুকরো টুকরো করার পরিকল্পনা করছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘সব কিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই বদলে যাবে কাশ্মীরের মানচিত্র। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাশ্মীর, জম্মু ও লাদাখ হবে পৃথক পৃথক প্রশাসনিক অঞ্চল।কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিতর্কিত অঞ্চলটির এই বিভাজনের মধ্যদিয়ে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। কাশ্মীর বিভাজনের এই আলোচনা বেশ আগেই শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি এই বিতর্কে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও যোগ দিয়েছেন। ২০১৩ সালের রিডিফডটকমে লেখা এক নিবন্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল অনীল এ আথালে কাশ্মীরকে ভেঙে তিন টুকরো করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন যুক্তি দেখান। কাশ্মীর সমস্যার সমাধান বাতলে নিবন্ধে তিনি বলেন,সময় হয়েছে কাশ্মীরকে ভেঙে কাশ্মীর, জম্মু ও লাদাখ এই তিনটি পৃথক প্রশাসনিক অঞ্চলে পরিণত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *