ঝিনাইদহ-৪ আসন: তরুণ ও শিক্ষিত প্রার্থী চায় ভোটাররা

বাংলাদেশ লিড নিউজ

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি, সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-৪ (জাতীয় সংসদের ৮৪) আসন। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৪৯ হাজার ২২ জন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে তরুণ ও শিক্ষিত প্রার্থী চায় এলাকার ভোটাররা। যিনি এলাকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবেন, কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে এলাকার তরুণ প্রজন্মকে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করবেন, দরিদ্র কৃষকদের জন্য যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেবেন, রাস্তা-ঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকে শিল্পসমৃদ্ধ নগর হিসেবে গড়ে তুলবেন ; এবার এমন প্রার্থীকেই ভোট দিতে উদগ্রীব তারা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এরকম কিছু চাওয়া পূরণ করতেই এবার এই আসনের এমপি হতে আগ্রহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে এমনটাই দাবি করছিলেন তিনি।

এ আসনের ভোটার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম বলছিলেন ‘ আমরা চাই সৎ-যোগ্য-শিক্ষিত ও তরুণ এম পি যিনি এলাকার উন্নয়নে স্বশরীরে অংশগ্রহণ করবেন।’ কৃষক আব্দুল কুদ্দুস কেমন এমপি চান এ প্রশ্নের উত্তরে বলছিলেন , ‘আমরা জমিতে চাষ করি, ফসল ফলাই। কিন্তু যোগাযোগের অভাবে দাম পাইনা ; আমাদের চাষীদের নিয়ে যে ভাববে তাকেই ভোট দিব। ’ এলাকার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক এখন আমাদের বিরাট সমস্যা, যে প্রার্থী মাদক বন্ধে কাজ করবে তাকেই ভোট দেব। ’

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বর্তমানে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয়  কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। ইতোমধ্যেই তিনি দলীয় ফরম সংগ্রহ করে জমাও দিয়েছেন। প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন বলে আত্মবিশ্বাসী বলেও জানিয়েছেন তিনি। ১/১১ এর সময়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও সেইসময়ের ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে দলের শীর্ষ পর্যায়ের গুডবুকে রয়েছেন তিনি। অন্যদিকে এই আসনের বিএনপি’র তৃণমূলের অনেকেও মনে করেন এবার ফিরোজই হবেন ধানের শীষের প্রার্থী।

সাইফুল ইসলাম ফিরোজ

দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি না থাকায় আওয়ামী লীগের জন্য ঝিনাইদহের চারটি আসনই দখল সহজ হয়ে যায়। একাদশ সংসদ নির্বাচনেও দলটি আসনগুলো দখলে রাখার জন্য বদ্ধপরিকর। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠে নেমে পড়েছেন এরই মধ্যে। আসনগুলোতে একসময় বিএনপির শক্ত অবস্থান ছিল। নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে বিএনপি চারটি আসনই পুনরুদ্ধার করতে পারবে বলে আশা করছে দলটি। এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণার পরই মাঠে তৎপর বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র প্রত্যাশী বর্তমান সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজীম আনার, সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বিজু, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী ঠাণ্ডু, ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতি, সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ শমসের, কালীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম তপু ও শরিফুল ইসলাম মিন্টু। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও এলাকায় গণসংযোগ করছেন এবং এই আসন ধরে রাখতে মরিয়া।

বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ছাড়া আরও রয়েছেন বিএনপির সাবেক সাংসদ শহীদুজ্জামান বেল্টু, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির এক অংশের আহ্বায়ক পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহবুবার রহমান, যুগ্মআহবায়ক হামিদুর রহমান ও বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ মোল্লা।

আলাপকালে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সহ-সভাপতি, প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মনোনয়ন জমা দেয়ার পর সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন,  ‘ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম ও ‘দলের চেয়ারপার্সন’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম এবং আছি। দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। ঝিনাইদহ-৪ আসনের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া কামনা করছি।’বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী শহীদুজ্জামান বেল্টুকে ফোন করলে তার সহকারী বলেন ’স্যার অসুস্থ, পরে ফোন দেন। ’

নিজের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ঝিনাইদহ -৪ আসনের ভোটারদের দোয়া চেয়ে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ’আমার জন্মস্থান ও নির্বাচনী এলাকা ঝিনাইদহ-৪ আসনের বর্তমান সময়ের প্রধান সমস্যা মাদক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক দলীয়করণ, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর সংকট, শিল্প-কারখানার অভাব, বিদ্যুৎ ঘাটতি, বেকারত্ব, কৃষিব্যবস্থাপনার অভাব ও সবুজায়নের অভাব ইত্যাদি। আমার সংসদীয় আসনের প্রাণপ্রিয় জনগণের সাথে আমিও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি একটি সঠিক নেতৃত্বের অভাবেই অমিত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা (কালীগঞ্জবাসী ও সদরের একাংশ) তুলনামূলকভাবে বেশ কম অগ্রসরমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘ ঝিনাইদহ-৪ আসনের তরুণ প্রজন্ম ও বিপুলসংখ্যক নবীন ভোটারসহ অভিজ্ঞ জেষ্ঠ নাগরিকদের মতো আমিও প্রচন্ডভাবে বিশ্বাস করি একজন তরুণ-উদ্যমী-শিক্ষিত-বলিষ্ট-বিনয়ী নেতৃত্বই পারবে একটি সম্ভাবনার ইকোনমিক জোন গড়ে তোলাসহ সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত-আধুনিক ও সমৃদ্ধ ঝিনাইদহ-৪ আসন বিনির্মাণ করতে।’ অন্যদিকে, আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আনোয়ারুল আজীম আনার ও আবদুল মান্নানের সাথে যোগাযোগের জন্য ফোন করা হলেও তারা কেউই ফোন ধরেন নি।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের চায়ের দোকান-সভা-সমিতিসহ বাসা-বাড়ী সব জায়গায় ভোটের হাওয়া লেগেছে ; তবে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে এ আসনের ভোটাররা এবার পরিবর্তনের আশায় তরূণ-শিক্ষিত-মার্জিত ও নতুন প্রার্থীর পক্ষেই অবস্থান নিতে চাচ্ছেন । আর কে হচ্ছেন এই আসনের পরবর্তী সংসদ সদস্য তারজন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিন পর্যন্ত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *