রাজনৈতিক সংকটে শত কোটি ডলার ক্ষতি শ্রীলংকার

এশিয়া প্যাসিফিক

(কলম্বো, শ্রীলংকা) শ্রীলংকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটে ১০০ কোটি ডলার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে দেশটির। গত বছরের শেষ দিকে এসে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের মধ্যকার প্রায় দুই মাসব্যাপী ক্ষমতার দ্ব›েদ্ব এ বিশাল পরিামণ রিজার্ভ হারায় ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দেশটি। এছাড়া বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক ঋণের জালেও জড়িয়ে গেছে কলম্বো। শুক্রবার এ খবর দিয়েছে এএফপি।

গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে হঠাৎই বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন এককালের কঠোর প্রতিদ্ব›দ্বী ও ‘শ্রীলংকার লৌহমানব’ খ্যাত বিতর্কিত সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে। শুধু তাই নয়, একপর্যায়ে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের তারিখও ঘোষণা করেন। কিন্তু দেশটির সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের এই দুই সিদ্ধান্তকে সংবিধান পরিপন্থী অভিহিত করেন। ৫১ দিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা শেষে অবশেষে প্রধানমন্ত্রীত্ব ফিরে পান বিক্রমাসিংহে। কিন্তু ততদিনের গুনতে হয় বড় অঙ্কের ক্ষতি।

রাজনৈতিক সংকটের ক্ষতির বিষয়ে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের এক ভাষণে বিক্রমাসিংহে বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে শ্রীলংকা। এজন্য গত বছরের ওই রাজনৈতিক সংকটকেই দোষারোপ করেছেন তিনি। ওই সংকট অর্থনীতির ‘চরম আঘাত’ হেনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন,‘আমরা এখনও পুরো ক্ষতির হিসেবে করে উঠতে পারিনি। তবে নিশ্চিতভাবেই বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে দেশের অর্থনীতির। সেটা কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছি আমরা।’

বিক্রমাসিংহে জানান, ২০১৯ সালের শুরুতেই মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৯০ কোটি ডলার। বিশাল এই ঋণের মধ্যে ২৬০ কোটি ডলার আগামী সোমবারের মধ্যে শোধ করার কথা রয়েছে। সরকারের পক্ষে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৯০ কোটি ডলার সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশ্বের অন্তত তিনটি ঋণমান সংস্থা সংকটের সময়েই হুশিয়ারি দিয়েছিল, কলম্বোর অর্থনীতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এর ফলে দেশটির বৈদেশিক ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছিল তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *