প্রজাতন্ত্র দিবসে সামরিক শক্তির প্রদর্শনী ভারতের

ভারত

(নয়াদিল্লি, ভারত) প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে সামরিক শক্তির বিশাল মহড়া দেখাল ভারত। নারী শক্তির উত্থানই ছিল এ মহড়ার মুল উপজীব্য। সেনা কুচকাওয়াজে নেতৃত্ব দেন আসাম রাইফেলসের নারীরা। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কুচকাওয়াজেও সামনের সারিতে রাখা হয় নারীদরকেই। বাইক নিয়ে নানা রকমের কসরৎ দেখান আর এক নারী সেনা অফিসার। স্থল, জল, বায়ু, সর্বস্তরেই ভারতের সামরিক শক্তি প্রদর্শিত হয় এ দিন। দেখানো হয় বিমানবাহিনীর সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো। প্যারেডে অংশ নেন আইএনএর চার জন প্রবীণ সেনা। যাদের প্রত্যেকের বয়স ৯০ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে। খবর এনডিটিভির।

শনিবার ছিল ভারতের ৭০তম প্রজাতন্ত্র দিবস। লোকসভা নির্বাচনের আগে এটাই শেষ প্রজাতন্ত্র দিবস। নির্বাচনের আগে তাই দিবসটি আয়োজনে আড়ম্বরের কোনো ত্র“টি করেননি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘জাতির জনক’ মহাত্মা গাঁন্ধীর জšে§র সার্ধশতবর্ষ তথা ১৫০ বছর এবার। তার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষ সম্পর্ক ছিল। সেটা মনে রেখেই এবারের অনুষ্ঠানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাড়তি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসাকে। এ বারই প্রথম ভারতে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো প্রেসিডেন্ট। স্ত্রী ছাড়াও তার সঙ্গে এসেছেন তার দেশের ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল।

শনিবার সকালে অমর জওয়ান জ্যোতিতে গিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরেই নয়াদিল্লির রাজপথে শুরু হয় কুচকাওয়াজ। ভারতের কৃষ্টি এবং সংস্কৃতিই উঠে আসে রাজধানীর রাজপথে। রেল-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মোট ২০টি ট্যাবলোর প্রদর্শন হয়। এবারের প্যারেড চলে একটানা ৯০ মিনিট। ভারতের কৃষ্টি এবং সংস্কৃতি উঠে আসে রাজধানী নয়াদিলি­র রাজপথে।

এছাড়া অনুষ্ঠান ঘিরে গোটা রাজধানীজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা। এ দিন গোটা দিল্লিতেই নিরাপত্তার বেষ্টনীকে নিশ্ছিদ্র রাখার তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। মোতায়েন ছিলেন ২৫ হাজার পুলিশকর্মী। রাজপথে ছিল মোট ৪০০টি মেটাল ডিটেক্টর। তিন বছর বাদে ফের রেলের ট্যাবলো ছিল এ বারের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে। সেখানে ১৮৯৩ সালের সেই ঘটনাকে তুলে ধরা হয়, যে দিন দক্ষিণ আফ্রিকার একটি স্টেশনে লাঞ্ছনার শিকার হন গাঁধী। তা ছাড়াও রেলের ট্যাবলোতে ছিল ভারতের দ্রুততম ট্রেন ১৮-র উল্লেখও।

এ বার ফাঁকা মাঠে প্রজাতন্ত্র দিবস পালন মিজোরামে:
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে সুর চড়াচ্ছে মিজোরাম। বৃহস্পতিবারই ‘চীন জিন্দাবাদ’ স্লোগান-পোস্টারে মিছিল বেরিয়েছিল আইজলে। দেয়া হয়েছিল প্রজাতন্ত্র দিবস বয়কটের ডাক। আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত করে শনিবার প্রায় ফাঁকা মাঠেই প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করলেন মিজোরামের গভর্নর কুম্মানাম রাজশেখরন। মন্ত্রী, বিধায়ক এবং কিছু আমলা ছাড়া এই অনুষ্ঠানে প্রায় কেউই ছিলেন না বলে জানানো হয়েছে মিজোরাম পুলিশের তরফে।

প্রথামাফিক প্রজাতন্ত্র দিবস পালনে কোনো ত্রুটি ছিল না মিজোরামের রাজধানী আইজলে। ছয় কোম্পানি সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অংশ নেয় আরও ৩০ কোম্পানি অন্যান্য বাহিনীও। যদিও আয়োজনই ছিল সার। নিয়মমাফিক প্রজাতন্ত্র দিবস, রাজ্যপালের ভাষণ, ছিল সবই, কিন্তু তা দেখার জন্য হাজির ছিলেন না কেউই। একই পরিস্থিতি ছিল মিজোরামের অন্যান্য জেলা শহরেও। কোথাও কোথাও আমলা এবং সরকারি কর্তারাও ছিলেন না। বাধ্য হয়ে ডেপুটি কমিশনাররাই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দায় সারেন। মহকমা এবং ব্লক স্তরেও ছবিটা ছিল এইরকমই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *