রাজনৈতিক উত্তেজনার তুঙ্গে ভেনিজুয়েলা, ইইউ- যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি

আমেরিকা লিড নিউজ

(কারাকাস, ভেনিজুয়েলা) একদিকে স্বঘোষিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট’ হুয়ান গুয়াইদো আগামী বুধবার ও শনিবার সরকার বিরোধী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আরও কড়া বার্তা দিয়েছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কূটনীতিক বা হুয়ান গুয়াইদোর বিরুদ্ধে কোনো হুমকি এলে তার উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। অনলাইন বিবিসি লিখেছে, দৃশ্যত রাজনৈতিক উত্তেজনার তুঙ্গে ভেনিজুয়েলা। অর্থাৎ টগবগ করে ফুটতে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন বলেছেন, তাদের কোনো কূটনীতিক বা হুয়ান গুয়াইদোর বিরুদ্ধে কোনো হুমকি এলে বা কোনো রকম ভীতি প্রদর্শন করা হলে তা আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্র ও কমপক্ষে আরও ২০টি দেশ হুয়ান হুয়ান গুয়াইদোকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার কয়েকদিন পরে এ হুঁশিয়ারি দিলেন জন বল্টন। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানেরও হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মাদুরোকে ৮ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে ইইউ’র

ফ্রান্স, স্পেন, বৃটেন, জার্মানি অন্য কৌশলে চাপ সৃষ্টি করেছে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তারা তাকে ৮ দিনের সময় দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়েছে তাকে। যদি তিনি তা না করেন তাহলে স্বঘোষিত হুয়ান গুয়াইদোকে তারা প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বলেছে, ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালালে তাতে করুণ এক পরিণতি ডেকে আনবে। 

এরই মধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ পেয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সুরক্ষা দিতে ৪০০ সেনা সদস্যকে ভেনিজুয়েলায় পাঠিয়েছে রাশিয়া। সব কিছু মিলে এ ইস্যুতে বিশ্ব এখন স্পষ্টত দুইভাবে বিভক্ত। ভীষণ ঠান্ডা এক লড়াই চলছে। একে শীতল যুদ্ধের সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। আবার বর্তমান সংকটকে কেন্দ্র করে বড় ধরণের একটি যুদ্ধেরও সূচনা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার পরিণাম দাঁড়াতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে।

গত বছর ভেনিজুয়েলায় নির্বাচনে বিজয়ী হন নিকোলাস মাদুরো। তবে ওই ভোট বর্জন করেছিল বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ ভোটে ব্যাপক হারে কারচুপি হয়েছে। এর প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে বিরোধীরা। আন্তর্জাতিক মহল থেকে ওই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেয়া হয় নি। তবু ১০ই জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেন মাদুরো। এক্ষেত্রে তার পক্ষ নিয়েছে সেনাবাহিনী।

তবে ওয়াশিংটনে ভেনিজুয়েলা দূতাবাসের সামরিক এটাচে কর্নেল হোসে লুইস সিলভা প্রেসিডেন্ট মাদুরোর পক্ষ ত্যাগ করেছেন। তিনি হুয়ান গাইডোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এর পর পরই জন বল্টন টুইট করেছেন। তাতে তিনি পুনর্বার ওয়াশিংটনের অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করেন। গাইডোও দেশকে বুধবার অচল করে দিতে দুই ঘন্টার জন্য শান্তিপূর্ণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। সেখান থেকে তিনি এসব কর্মসূচি দিয়েছেন। শনিবার বড় রকমের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের র‌্যালির ডাক দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *