পোপ ফ্রান্সিসের ঐতিহাসিক সফরে আবুধাবি স্টেডিয়ামে ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের সমাবেশ

মধ্যপ্রাচ্য

(দুবাই, আরব আমিরাত) পোপ ফ্রান্সিস ঐতিহাসিক সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার আবুধাবির স্টেডিয়ামে এসে পৌছেছেন। সেখানে আগে থেকে জড়ো হওয়া প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর সামনে ভাষণ দেবেন তিনি। এদিন সকালেই তাকে বহনকারী একটি গাড়িবহন শেখ যায়েদ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে। এ সময় ভ্যাটিকান পতাকা ও পতাকা হাতে উৎসাহী জনতা তার গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানায়। জনতার প্রতি হাত নেড়ে তার জবাব দেন পোপ ফ্রান্সি। খবর এএফপির।

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান যাজক হিসেবে প্রথমবারের মতো রোববার আরব উপদ্বীপে পা রাখলেন ফ্রান্সিস। তার এই সফর ব্যাপকভাবে কাভার করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। আমিরাত পৌঁছার কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে এ-যাবত্কালের মধ্যে সবচেয়ে কড়া ভাষায় নিন্দা প্রকাশ করেন। এ যুদ্ধে নেতৃস্থানীয় সামরিক ভূমিকা পালন করছে ইউএই।

আবুধাবির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ আগে পোপ ফ্রান্সিস জানান, তিনি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে ইয়েমেনে চলমান মানবিক সংকট পর্যবেক্ষণ করছেন। ভ্যাটিকান সিটি থেকে নিয়মিত রোববারের ভাষণে তিনি সব পক্ষকে ভেঙে পড়া শান্তিচুক্তিটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং লাখ লাখ ক্ষুধার্ত ইয়েমেনির কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছাতে সাহায্যের অনুরোধ জানান।

সেন্ট পিটারস স্কয়ারে সমবেত হাজার হাজার দর্শনার্থীর সামনে তিনি বলেন, ‘এই শিশু ও তাদের মা-বাবার কান্না ঈশ্বরের কাছেও পৌঁছে গেছে। আসুন আমরা এই ক্ষুধার্ত-তৃষ্ণার্ত শিশুদের জন্য জোরালোভাবে প্রার্থনা করি। তারা জীবনরক্ষার প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছে না, তারা মৃত্যুর মুখে রয়েছে।’

ইয়েমেন বিষয়ে পোপের এ বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউএই। দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী আনোয়ার গরগাশ টুইটারে বলেন, তিনি (পোপ) যে শান্তিচুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তা ঐতিহাসিকভাবে ফলপ্রসূ হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। আবুধাবিতে পোপ পা রাখার পর তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা প্রদান করি এবং ২০১৯ সালকে ইয়েমেনের শান্তিবর্ষ হিসেবে রূপান্তর করি।’

এদিকে দুদিনের সফরে পোপ মুসলিম নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং এ অঞ্চলের ১ লাখ ৩৫ হাজার ক্যাথলিককে দেখা দেবেন। ইয়েমেনে যুদ্ধরত দুই পক্ষ ডিসেম্বরে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। প্রায় চার বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনার ফলাফল ছিল এটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *