তালেবান পুরো আফগানিস্তান দখল করতে চায় না: তালেবান নেতা শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই

অন্যান্য

(কাবুল, আফগানিস্তান) ‘অস্ত্রের শক্তি দিয়ে পুরো আফগানিস্তান দখলে নেয়ার কোনো পরিকল্পনা তালেবানের নেই। কারণ এতে আফগানিস্তানে শান্তি আসবে না।’যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় তালেবানের নেতৃত্ব দেয়া কর্মকর্তা শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই একথা বলছেন। রাশিয়ার মস্কোয় এক বৈঠককালে বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। তবে বিদেশি সেনারা আফগানিস্তানের মাটি না ছাড়া পর্যন্ত তলেবান কোনো যুদ্ধবিরতি চু্ক্তিতে উপনীত হবে না বলেও জানান তিনি।

আফগানিস্তানের সংবিধান ‘পশ্চিমা বিশ্ব থেকে আমদানি করা’ উল্লেখ করে শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই বলেন, ‘এটিই শান্তি পথে বাধা হয়ে আছে। তালেবান জোর করে আফগানিস্তানের একচেটিয়া ক্ষমতা করায়ত্ব করতে চায় না।’ স্তানিকজাইয়ের নেতৃত্বেই আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কয়েক মাস ধরে তালেবানের একটি দল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে। ওই আলোচনার জন্য স্টানিকজাইকে প্রধান করে কাতারে তালেবান একটি কার্যালয় খুলেছে।

জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতাদের একজন স্টানিকজাই এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।আফগানিস্তানের ঊর্ধ্বতন বিরোধীদলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে যান স্টানিকজাই। সেখানে তিনি আরো বলেন:

সমস্যা সমাধানে আলোচনাই উত্তম

‘নব্বইয়ের দশকে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকার তাদের স্বশস্ত্র বিরোধী দলগুলোকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। ওই অভিজ্ঞতা থেকেই শেষ পর্যন্ত তালেবান বুঝতে পেরেছে যে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই বরং বেশি ভাল’ বলেন শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই। তবে শান্তি আলোচনা সহজ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের চেয়ে শান্তি আনা অনেক কঠিন। আশা করি আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘ দিনের এই যুদ্ধের অবসান হবে।’

আফগানিস্তানে শান্তি আলোচনার জন্য গত কয়েক মাসে স্তানিকজাই এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। জানুয়ারিতে চুক্তির বিষয়ে একটি ‘খসড়া পরিকল্পনায়’ উপনীত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন খলিলজাদে। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি এবং তালেবান ভবিষ্যতে কোনো বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠিকে আফগান মাটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার নিশ্চয়তার ভিত্তিতে ওই খসড়া পরিকল্পনা হয়।

যদিও একটি চুক্তিতে উপণীত হতে এখনও অনেক বিষয়ে একমত হওয়া বাকি আছে। তা জানে উভয় পক্ষই। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ হয়েছে দাবি করে সেখান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ইচ্ছার কথা ঘোষণা করেন। স্তানিকজাই এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস ট্রাম্প প্রশাসন আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চাইছে। আমরা তার কাছে সেটিই প্রত্যাশা করি।’ বিশ্বের অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের তুলনায় তালেবান হামলাতেই সবচেয়ে বেশি বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

নারীদের ‍উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই

আফগানিস্তানে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত ছিল কট্টর তালেবান শাসন। নারীদের দমনপীড়নের জন্য কুখ্যাতি পেয়েছিল তালেবান। সেই নারীদের স্বাধীনতা নিয়েই এবার তালেবান কর্মকর্তা স্টানিকজাই বলেছেন, ‘তালেবানের প্রভাব বাড়া নিয়ে নারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, তালেবান ইসলামিক আইন এবং আফগান সংস্কৃতির ভিত্তিতে নারীদেরকে তাদের অধিকার দেবে। তারা স্কুল,কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতে পারবে। চাকরিও করতে পারবে।’

তালেবানের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্যর প্রতিক্রিয়ায় মস্কো বৈঠকে উপস্থিত আফগান এমপি এবং একমাত্র নারী ফৌজিয়া কুফি বিবিসি কে বলেন, ‘যে তালেবান একসময় আফগানিস্তানের জনগণের ওপর বুলেট চালাত, বিশেষত নারীদের ওপর যে অত্যাচার চলত- তারাই এখন নারীদের কণ্ঠ শুনছে, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *