সাত দিনের মধ্যে ১০০ ভাগ আইএস নির্মূলের অঙ্গিকার ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্য

(ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ইরাক ও সিরিয়াকে ১০০ ভাগ জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসমুক্ত করে ফেলবে মার্কিন বাহিনী। এ সময়ের মধ্যে আইএস নিয়ন্ত্রিত অবশিষ্ট এলাকাও উদ্ধার হবে বলে জোর দাবি করেছেন তিনি। বুধবার ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনে আইএস বিরোধী লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য দিতে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

এদিকে সিরিয়ার যুদ্ধ যখন শেষের পথে তখন দেশটি থেকে গোপনে বিদেশী জঙ্গিদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি জানিয়েছে, সিরিয়ায় আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে আটক হয়েছে ফ্রান্সের বেশ কিছু নাগরিক। তারা এখন মার্কিন বাহিনী চালিত বন্দিশিবিরে আটক রয়েছে।

আইএসের পরাজয়ের মুখে তাদেরকে সরিয়ে নেয়ার কথা বিবেচনা করছে ফরাসি সরকার। সেই সঙ্গে তাদের স্ত্রী, সন্তান ও আÍীয়-স্বজনদেরকেও। এইচআরডব্লিউ বলেছে, অভিযুক্ত যেকোনো বিদেশী জঙ্গি এবং তাদের আÍীয়-স্বজনদের স্থানান্তর অবশ্যই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হতে হবে। খবর এএফপির।

সিরিয়ায় আইএস বিরোধী লড়াইয়ে যুক্ত রয়েছে ২ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা। লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জয় হয়েছে অভিহিত করে সম্প্রতি সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তবে মিত্র দেশগুলো ও ট্রাম্প ঘনিষ্ঠদের আপত্তিতে সেনা প্রত্যাহার বিলম্বিত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

সিরিয়া ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করা ৭৯টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘মার্কিন সেনাবাহিনী, আমাদের জোট বাহিনী ও সিরিয় ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস আগেই ইরাক ও সিরিয়ার বেশিরভাগ এলাকা মুক্ত করে ফেলেছে। আগামী সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে আইএসকে ১০০ ভাগ পরাজিত করার ঘোষণা দেয়া হবে।’

আইএসকে পরাজিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। বুধবার মিত্রদের তিনি বলেন, সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার মানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের পরিসমাপ্তি নয়। এ সময় তিনি ইরাক ও সিরিয়া থেকে আইএসকে চিরতরে নির্মূল করতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সাহায্য কামনা করেন। মাইক পম্পেও বলেন, সিরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পরও আইএস ঠেকাতে মিত্রদের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।

২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে বুধবার পম্পেও বলেন, সেনা প্রত্যাহার মূলত কৌশলগত পরিবর্তন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের যে মিশন তাতে কোনও পরিবর্তন হয়নি। এটি শুধু পুরনো লড়াইয়ের একটি নতুন ধাপ। মাইক পম্পেও বলেন, আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হলেও দলটি এখনও একটি ভয়াবহ হুমকি।

যে করেই হোক মার্কিন সেনা উৎকাতের প্রতিশ্র“তি ইরাকের:
যেকোনো উপায়েই ইরাকের মাটি থেকে মার্কিন সেনাদেরকে উৎখাতের প্রতিশ্র“তি দিয়েছে ইরাকি শিয়া কর্মকর্তারা। দেশটির নেতারা বলেছেন, তারা এখন দুটি উপায়ের কথা বিবেচনায় রেখেছেন। হয় আইন করে এটা করবেন। না হলে শক্তি প্রয়োগ করে।

এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ বলেছেন, ইরানের ওপর নজর রাখতে আমাদের মাটি ব্যবহারের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই। সোমবার তিনি যখন এ কথা বলছিলেন, তার একদিন আগে সিবিএস নিউজ চ্যানেলে ফেস দ্য নেশন প্রোগ্রামে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরানকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় রাখা জরুরি। কারণ ইরানই মূল সমস্যা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *