থাই রাজকুমারীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, শুরুতেই স্বপ্নভগ্ন

পূর্ব এশিয়া

(ব্যাংকক, থাইল্যান্ড) থাই রাজকুমারী উবলরতত্না রাজকন্যা সিরিবর্ধনা বর্ণভেদিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করে দেশটির সেনা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন। স্বেচ্ছা নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ধনকুবের থাকসিন সিনাওয়াত্রা ঘনিষ্ঠ দল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় ব্যাপক নাটকীয়তা ও বিতর্কের মধ্যদিয়ে চারদিন পর তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। খবর এএফপির।

নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নির্বাচন কমিশন আজ থাই রক্ষা চার্ট পার্টি প্রস্তাবিত রাজকুমারীর উবলরতœার নাম নির্বাচন প্রক্রিয়া বাতিল করছে। কারণ রাজ পরিবারের প্রত্যেক সদস্য রাজনীতির উর্ধ্বে।’ এর মধ্যদিয়ে মূলত থাই রাজকুমারীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে দিল নির্বাচন কমিশন।

ইতিহাসে থাই রাজপরিবার থেকে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নজির নেই। শত শত বছরের রাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য ভেঙে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হয়েছেন থাই রাজকুমারী উবলরত্না। তিনি দেশটির রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের বড় বোন। শুক্রবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ব্যতিক্রমী ঘটনা ও এ নজির সৃষ্টি করেছেন ৬৭ বছর বয়সী এ রাজকন্যা। এতে থাই জনগণের মধ্যে সাড়া পড়ে যায়। থাই সমাজে রাজ পরিবারের শীর্ষ সদস্যদের ঈশ্বরতুল্য জ্ঞান করা হয়।

থাই রক্ষা চার্ট পার্টির নেতা প্রিচাপোল পোংপানিছ বলেন, ‘আমাদের দল রাজকুমারীকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি অনেক জ্ঞানী এবং অধিকতর যোগ্য। আমার বিশ্বাস, তাকে মনোনয়ন দেয়া নিয়ে কোনো আইনী জটিলতার সৃষ্টি হবে না।’ কিন্তু একদিন না যেতেই নিজ পরিবার তথা বড় ভাই থাই রাজা ভাজিরালংকর্নের বাধার মুখে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, উবলরতœার প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীতার ঘোষণা সংবিধানের ‘সম্পূর্ণ লঙ্ঘন’ ও অনুচিত কাজ’। এরপর শনিবার প্রধানমন্ত্রী পদে রাজকুমারীর মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা দেয় তার দল থাই রক্ষা চার্ট পার্টি।

ভাই বিরোধিতা করলেও রাজকন্যা নিজের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থিতার সিদ্ধান্তকে যথার্থই মনে করছেন। শনিবারে ইনস্টাগ্রামে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমাকে ভালোবাসা ও সমর্থন দেয়ার জন্য সব থাই নাগরিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উবলরতœা বলেন, ‘সব ধরনের রাজমর্যাদা ত্যাগ করে তিনি এখন সাধারণ নাগরিকের মতো যাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হয়ে নিজের অধিকারের চর্চা করতে চাই। থাইল্যান্ডকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই।’

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গ্র্যাজুয়েট রাজকন্যা ১৯৭২ সালে মার্কিন নাগরিক পিটার জেনসনকে বিয়ে করে রাজমর্যাদা ত্যাগ করেন। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০০১ সালে থাইল্যান্ডে ফিরে আবারও রাজকীয় জীবনযাপনে অংশ নিতে শুরু করেন। থাই রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে রাজা ভাজিরালংকর্ন বলেন, লিখিতভাবে পদমর্যাদা ত্যাগ করলেও তিনি (রাজকন্যা) এখনও রাজমর্যাদা ভোগ করেন এবং রাজপরিচয় বহন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *