বিশ্বে আশঙ্কাজনক হারে মরে যাচ্ছে কীট-পতঙ্গ; হুমকির মুখে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য

বিশ্বজগৎ

বর্তমানে বিশ্বে আশঙ্কাজনক হারে কমছে পোকমাকড়ের সংখ্যা। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারষাম্য। কমে যাওয়ার এই হার এতটাই উচ্চ যে, চলতি শতকেই উধাও হয়ে যেতে পারে সব পোকামাকড়। এর কারণ হিসেবে জীববিজ্ঞানীরা বলছেন, এই মুহূর্তে পৃথিবী ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তির হুমকির সম্মুখীন।

ইতিমধ্যে অনান্য বহু জীব-জন্তু-উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ভয়াবহ বিপন্নতার সম্মুখীন মানুষও। কিন্তু মানুষের চেয়ে ১৭ গুণ বেশি ঝুকিতে বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড়। যা প্রাণীজগতের খাদ্যচক্র, ফুল ও ফলের পরাগায়ন প্রভৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এক গবেষণা পত্রে উঠে এসেছে পোকামাকড়ের বিলুপ্তির ভয়াবহ এই তথ্য। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘বায়োলজিক্যাল কনজারভেশন’ এ সোমবার গবেষণা রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণা রিােপর্ট অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে ৫টি গণ বিলুপ্তি হয়েছে। ৬৬০ লক্ষ বছর আগে শেষ গণ বিলুপ্তিতে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছিল ডাইনোসররা। এরপরই শুরু হয় ইতিহাসের ষষ্ঠ গণ বিলুপ্তি। সেই ধারা এখন অব্যাহত রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে আফ্রিকান রিনোর মতোর প্রাণীগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। রিপোর্টের তথ্য মতে, পোকামাকড়ের মধ্যে ৪০% প্রজাতিরও বেশি এখন বিলুপ্তির মুখে এবং এদের এক তৃতীয়াংশই এখন বিপন্ন। আবার পোকামাকড় বিলুপ্তির এই হার স্তন্যপায়ী, পাখি ও সরীসৃপদের তুলনায় প্রায় ৮ গুন। অর্থাৎ অন্যান্য অন্যান্য জলচর ও উভচর প্রাণীর চেয়েও ৮ গুণ বেশি হারে বিলুপ্ত হচ্ছে কীট-পতঙ্গ।

সম্প্রতি ব্যাপক কীট-পতঙ্গ সংখ্যা ব্যাপক কমে যাওয়ার প্রথম খবর আসে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র শাসনাধীন পুয়ের্তো রিকো থেকে। কিন্তু গবেষণা রিপোর্ট মতে, এই সংকট প্রায় সারা বিশ্বের। কি কারণে পোকামাকড়ের এই গণবিলুপ্তি ঘটছে রিপোর্টে তার কারণও নির্দেশ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিলুপ্তির প্রধান কারণ কৃষি। বিশেষ করে কৃষিতে কীটনাষকের বেশি ব্যবহার। এর সঙ্গে আরও যে কারণ তা হচ্ছে, গ্রামগুলো দ্রুত শহর ও নগর হয়ে যাচ্ছে, গাছপালা ও প্রকৃতি ধ্বংস করা হচ্ছে এবং এর ফলে ঘটছে জলবায়ু পরিবর্তন।

গবেষণা রিপোর্টের অন্যতম লেখক অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রান্সিসকো সানচেজ বায়ো বলছেন, ‘কীট-পতঙ্গের এই হারিয়ে যাওয়া যদি না থামানো যায়, তাহলে যেমনিভাবে পৃথিবীর প্রকৃতি ও পরিবেশ ব্যবস্থার এর মারাÍক প্রভাব পড়বে, তেমনিভাবে প্রভাব ফেলবে মানুষের বেচে থাকার ওপরও।’

এর আগে সায়েন্স অ্যাডভ্যান্স নামক একটি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা বলা হয়ে, সাধারণ হারের ১০০% বেশি দ্রুততায় হারিয়ে যাচ্ছে বহু প্রজাতি। গবেষণাপত্রটির মূল লেখক মেক্সিকোর অটোনোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেরাডো সেবাল্লোস জানিয়েছেন ‘যদি এটা চলতেই থাকে, তাহলে প্রাণের পুনরুদ্ধার করতে লক্ষ লক্ষ বছর লেগে যাবে। এবং প্রাথমিক ভাবে যে প্রজাতির বিলুপ্তি হবে তাদের মধ্যে মানুষও পড়ে।’ বেশিরভাগ গবেষকই একমত যে ডাইনোসরদের অবলুপ্তির পর বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্তির হার এত ব্যাপক আগে কখনই ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *