ভারতে উদ্বোধনের একদিন পরই দ্রুতগামী ট্রেনে গণ্ডগোল, চালু হওয়ার পরেই থেমে গেল ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’

ভারত

(নয়াদিল্লি, ভারত) চালু হওয়ার দিনই আটকে গেল ভারতের প্রথম দ্রুতগামী ট্রেন ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’। বারাণসী থেকে প্রথম যাত্রা সেরে ফেরার পথেই ঘটে গণ্ডগোল। রাজধানী থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে আচমকাই থেমে যায় ট্রেন। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ট্রেন থেমে গিয়েছিল। ট্রেনে থাকা যাত্রীদের তাড়াতাড়ি অন্য ট্রেনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। শনিবার থেকেই বাণিজ্যিকভাবে ফের চালু হওয়ার কথা ছিল ট্রেনটির। খবর এনডিটিভির।

ভারতের প্রথম সেমি-হাইস্পিড ইঞ্জিনবিহীন এই ট্রেন ‘ট্রেন১৮’ নামেও পরিচিত। ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ দেশিয় প্রযুক্তিতে। কামরার বসার সিট থেকে শৌচালয় সবেতেই চুড়ান্ত আধুনিকতার ছোঁয়া। চলবে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে। কামরার ভিতরে সিসি টিভি থেকে শুরু করে ওয়াইফাই, জিপিএস, যাত্রীদের সুবিধা মতো চেয়ার ঘোরানোর ব্যবস্থাও রয়েছ। এ ছাড়া অত্যাধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম সহ ট্রেনটিতে থাকছে ১৬টি কামরা, ২টি এগজিকিউটিভ চেয়ারকার, বাকি ১৪টি চেয়ারকার। পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তার জন্যও রাখা হয়েছে বিশেষ সব ব্যবস্থা।

শুক্রবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজদের সঙ্গে পুলওয়ামার জঙ্গি হামলা নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর দিল্লিতে ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ চালু করেন তিনি। আর এই নতুন ট্রেন চালু হওয়াই নাকি পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার বিরুদ্ধে সবথেকে বড় জবাব, এমনটাই মন্তব্য করলেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।

এ দিন উদ্বোধনের পর সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে পীযূষ গোয়েল তুলে আনেন ২৬/১১ মুম্বই হামলার প্রসঙ্গ। বলেন, “যেভাবে মুম্বই হামলার পর মুম্বইয়ের মানুষ কাজে যোগ দিয়েছিলেন, নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেটা ছিল সেই সময় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সবথেকে বড় জবাব। ঠিক সেভাবেই আজকে ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ চালু করা হলো দেশের মানুষের জন্য। এটাই জঙ্গিদের সবথেকে বড় জবাব। আমাদের জওয়ান বা সাধারণ মানুষ, কেউই জঙ্গিদের কাছে মাথা নত করবে না।”

কিন্তু পীযূষ গোয়েলের এই মন্তব্যের পরেই সমালোচনা শুরু হয়েছে সব মহলে। রাজনীতির লোক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই রেলমন্ত্রীর এই মন্তব্যের নিন্দা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, এই ধরণের একটা বড় জঙ্গি হামলার সঙ্গে কী ভাবে একটা ট্রেনের উদ্বোধনকে মেলালেন রেলমন্ত্রী। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। জঙ্গি হামলার জবাব দেওয়া হয় যুদ্ধক্ষেত্রেই। ট্রেন চালু করে নয়। এই মন্তব্য করে জওয়ানদের বলিদানকে রেলমন্ত্রী ছোট করে দেখিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *