যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো নারী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ সৌদি আরবের

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

(রিয়াদ, সৌদি আরব) যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো নারী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছে রক্ষণশীল মুসলিম রাষ্ট্র সৌদি আরব।দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজপরিবারের একজন নারী সদস্যের নাম ঘোষণা করেছে রিয়াদ। শনিবার এক রাজকীয় ফরমানে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি আরবের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হবেন প্রিন্সেস রিমা বিনতে বন্দর আল সৌদ। তিনি বর্তমান রাষ্ট্রদূত যুবরাজ মোহাম্মদ মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই প্রিন্স খালিদের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।

এমন এক সময়ে প্রিন্সেস রিমা যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেলেন যখন খাশোগি হত্যাকাণ্ড ও ইয়েমেন যুদ্ধের মতো নানা ইস্যুতে মার্কিন মুলুকে চাপের মুখে রয়েছে রিয়াদ। খাশোগি হত্যকাণ্ডের অধিকতর তদন্তের জন্য হোয়াইট হাউসকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন বন্ধের পক্ষেও মত দিয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সিনেটর।

প্রিন্সেস রিমা বিনতে বন্দর আল সৌদের বাবা বান্দার বিন সুলতান ছিলেন ১৯৩২ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করা বাদশাহ আবদুল আজিজের দৌহিত্র। তিনি ১৯৮৩ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত টানা ২২ বছর যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার চাকরির সুবাদে প্রিন্সেস রিমার শৈশবের একটা বড় অংশ কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে মিউজিয়াম স্টাডিসে স্নাতক প্রিন্সেস রিমা ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। বিশ্বখ্যাত খুচরাপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হার্ভি নিকোলস রিয়াদের সিইও ছিলেন রিমা।

নারী অধিকারের পক্ষে সরব প্রিন্সেস রিমা সৌদিতে নারীদের খেলাধুলার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কাজ করেছেন স্তন ক্যান্সারে সচেতনা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে নাম ঘোষণার পর টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে সৌদি আরব, দেশটির নেতা ও শিশুদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন প্রিন্সেস রিমা।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু’র রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বেসমা মোনামি আলজাজিরাকে বলেন, দৃশ্যত সৌদি আরব এক্ষেত্রে জনসংযোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। খাশোগি হত্যাকাণ্ড, ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর তারা এখন ভিন্ন দিকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *