‘১৭ হাজার ৫০০ টাকার জন্য মিসবাউলকে খুন করি’

বাংলাদেশ

(ঢাকা, বাংলাদেশ) ‘টাকা ছিনিয়ে নিতে মিসবাউলের ওপর হামলা করি। প্রথমে সে টাকা দেয়নি। একপর্যায়ে তার গলায় ও বুকে ছুরিকাঘাত করি। পরে টাকা ছেড়ে দেয় মিসবাউল। ১৭,৫০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাই’-সিলেটের আলোচিত মিসবাউল হোসেন হত্যার এমন লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে ঘাতক রমজান মিয়া। রোববার বিকালে সিলেটের আদালতে এবং শনিবার রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদকালে খুনের ঘটনায় দায় স্বীকার করে সে। সোমবার এক এ খবর দিয়েছে মানব জমিন।

সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক মামুনুর রশীদের আদালতে ঘাতক রমজান মিয়া আলোচিত মিসবাউল হোসেন খুনের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রমজানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২০শে ফেব্রুয়ারি রাতে সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ খরাদিপাড়া এলাকার সিদ্দিকী কটন মিলের ম্যানেজার মিসবাউল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে অজ্ঞাত ঘাতকরা। এ ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় মিসবাউলকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ দেখা দেয়। আলোচিত এ খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায় এলাকাবাসী। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশ খুনের ঘটনার পর থেকে রহস্য উদঘাটনে নামে।

এরপর ঘাতকদের খুঁজে তারা কয়েকটি অভিযান চালায়। শনিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা খরাদিপাড়া এলাকার ঘটনাস্থলের ঠিক উল্টো পাশের একটি বাসায় অভিযান চালায়। ওখান থেকে তারা রমজান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার কারপাশা গ্রামের উসমান মিয়ার ছেলে হচ্ছে রমজান মিয়া। সে দীর্ঘ দিন ধরে সিলেটে বসবাস করছে। সে বর্তমানে খরাদিপাড়া জাপানি বাসার সামনের কলোনীতে বসবাস করত।

শাহপরান থানা পুলিশ রমজানকে আটকের পর সে প্রথমে খুনের ঘটনা অস্বীকার করে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে রাতে খুনের ঘটনা স্বীকার করে। শাহপরান থানার ওসি আক্তার হোসেন রোববার জানান, সিদ্দিকী কটন মিলের ম্যানেজার মিসবাউল হোসেন প্রতিদিনই তার মালিককে টাকা সমঝে দেয়। এ দৃশ্য রমজান প্রতিদিনই দেখত। এ দেখা থেকে টাকার প্রতি তার লোভ দেখা দেয়। ঘটনার দিনও মিসবাউল হোসেন টাকা নিয়ে তার মালিকের কাছে যাচ্ছিল।

`এ সময় তার পথরোধ করে রমজান মিয়া। এ সময় সে মিসবাউলের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে টাকা ছিনিয়ে নিতে মিসবাউলকে ছুরিকাঘাত করে। পরে  ছোরা ঘটনাস্থলে রেখেই টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। প্রথমে সে টাকা নিয়ে চলে যায় পার্শ্ববর্তী মজুমদারপাড়া খেলার মাঠে। সেখানে কিছু সময় কাটানোর পর আবার ফিরে আসে নিজের ঘরে। এরপর থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সে নিজের ঘর থেকে বের হতো না বলে পুলিশকে জানায়।’

এদিকে পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের ঘটনা স্বীকার করার পর গতকাল বিকালে তাকে পাঠানো হয় সিলেটের আদালতে। সেখানেও খুনের ঘটনা স্বীকার করে রমজান আলী। ওসি আক্তার হোসেন জানান, আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদানের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। খুনের ঘটনার মিশনে সে একাই জড়িত ছিল। তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না। তিনি জানান, রমজান আলী পেশাদার ছিনতাইকারী ও অপরাধী। সে কোনো কাজ করতো না। ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত সে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারেও প্রায় সময় সে সক্রিয় থাকতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *