পরমাণু চুক্তি ছাড়াই শেষ ট্রাম্প-কিম হ্যানয় শীর্ষ বৈঠক

এশিয়া প্যাসিফিক লিড নিউজ

(হ্যানয়, ভিয়েতনাম) কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক। বৈঠকে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌছতে ব্যর্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। ফলে আলোচনা সংক্ষিপ্ত করে বৈঠকের ইতি টেনেছেন দুই নেতা।

যৌথ বিবৃতিতেও অংশ নেননি তারা। পরে পৃথক পৃথক বিবৃতি দেন। বাতিল করা হয় বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বৈঠক ও মধ্যাহ্ণভোজ। ট্রাম্প-কিমের মধ্যে তৃতীয় কোনো বৈঠক হবে কিনা সে ব্যাপারেও কোনো পরিকল্পনা হয়নি। ফলে দুই কোরিয়ার শান্তির স্বপ্ন নিয়ে হতাশ দক্ষিণ কোরিয়ার নেতৃত্বও। বৃহস্পতিবার এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি হয়। যৌথভাবে কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে একমত হন ট্রাম্প ও কিম। তবে নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় দু’দেশের মধ্যে ক‚টনৈতিক প্রচেষ্টা ও দর কষাকষি অব্যাহত থাকে। এ বছরের শুরু থেকে ট্রাম্প বেশ কয়েকবার কিমের সঙ্গে নতুন বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে কয়েকটি চিঠিও আদান-প্রদান হয়েছে তার।

এর মধ্যেই আলোচনার তারিখ ও ভেন্যু নির্ধারিত হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, এ বৈঠকে পরমাণু ইস্যুতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে দুই পক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো তেমন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি তারা। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, ‘এবার কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আরও বৈঠকের কথা ভাবছে।’

বুধবার নৈশভোজের পর শুরু হয় বৈঠক। বৈঠকে নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে সব অর্থিৈনতক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রস্তাব দেয় পিয়ংইয়ং। কিন্তু এ প্রস্তাব মেনে নিতে অস্বীকার করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, নিষেধাজ্ঞা বহাল অবস্থাতেই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে পিয়ংইয়ংকে। ওয়াশিংটনের এ অযৌক্তিক দাবি মেনে নিতে কিম রাজি না হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই বৈঠকের সমাপ্তি টানেন ট্রাম্প।

আলোচনার ভেস্তে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রাম্প। কোনো না হওয়ার কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মতের অমিলকে দায়ী করেন তিনি। বলেন, ‘তারা আমাদের দাবি অনুযায়ী নিরস্ত্রীকরণে রাজি। তবে এর বিনিময়ে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চান। এটা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা এটা করতে পারব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাওয়া-পাওয়ায় অনেক ব্যবধান। আমরা নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখব।’

ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে তৃতীয় কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা তার নেই। তবে স্পষ্ট করে বলেছেন, সমস্যার সমাধানে ক‚টিৈনতক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং আলোচনার সব পথই খোলা থাকবে। সিঙ্গাপুর বৈঠকের পর নতুন করে আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু বোমার পরীক্ষা করেনি পিয়ংইয়ং।

ট্রাম্প জানান, কিম তাকে ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু বোমার পরীক্ষা বন্ধ রাখার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপের নিকটে কোনো সামরিক মহড়া না চালানোর প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক মহড়ার না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ এটা করতে আমাদের কোটি কোটি ডলার খরচ হয়। আমি এগুলো আর দেখতে চাই না।’

যৌথ বিবৃতি না দিলেও বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে খোলাখুলি কথা বলেন কিম। তিনি বলেন, হ্যানয়ে তার উপস্থিতিই প্রমাণ করে তিনি নিরস্ত্রীকরণে ইচ্ছুক। যদি আমি না চাইতাম, আমি কখনোই এখানে আসতাম না।’ ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা এগিয়ে নেয়ার পক্ষেই কিমের অবস্থান। এ জন্য পিয়ংইয়ংয়ে মার্কিন ক‚টনৈতিক স্থায়ী উপস্থিতির সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

কোরীয় উপদ্বীপে শান্তির লক্ষ্যে পরমাণু ইস্যুতে ট্রাম্প-কিমের বৈঠক থেকেই একটি স্পষ্ট ও স্থায়ী চুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা। কিন্তু সেটা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। তবে অদূর ভবিষ্যতে নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী সিউল। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটা আফসোসের বিষয় যে, দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকেও চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে অর্থপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *