আমেরিকা ফের আলোচনা চাইলেও আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে: ট্রাম্প-কিম বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এশিয়া প্যাসিফিক

(পিয়ংইয়ং, উত্তর কোরিয়া) উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হো বলেছেন, আমেরিকা তার দেশের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসতে চাইলেও পিয়ংইয়ংয়ের নীতি-অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের মধ্যকার দুদিনব্যাপী শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর একথা জানালেন রি। খবর এএফপির।

বৃহস্পতিবার কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক। বৈঠকে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌছতে ব্যর্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। ফলে আলোচনা সংক্ষিপ্ত করে বৈঠকের ইতি টেনেছেন দুই নেতা। যৌথ বিবৃতিতেও অংশ নেননি তারা। পরে পৃথক পৃথক বিবৃতি দেন। বাতিল করা হয় বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বৈঠক ও মধ্যাহ্ণভোজ।

বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর সাংবাদিকদের উদ্দেশে কোনো কথা বলেননি কিম জং-উন

ট্রাম্প-কিমের মধ্যে তৃতীয় কোনো বৈঠক হবে কিনা সে ব্যাপারেও কোনো পরিকল্পনা হয়নি। ফলে দুই কোরিয়ার শান্তির স্বপ্ন নিয়ে হতাশ দক্ষিণ কোরিয়ার নেতৃত্বও। এরপর রাতে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শীর্ষ বৈঠকে তার দেশ নিষেধাজ্ঞার আংশিক প্রত্যাহার চেয়েছিল, পুরোপুরি তুলে নেয়া নয়। রি বলেন, তার দেশ আলোচনায় বেশ কিছু ‘বাস্তবসম্মত’ প্রস্তাব দিয়েছিল যার মধ্যে ছিল উত্তর কোরিয়ার প্রধান পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ইয়ংবিয়নকে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় করা।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমেরিকার সঙ্গে তার দেশের আস্থা যে পর্যায়ে রয়েছে তার ভিত্তিতে এটি ছিল পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে সবচেয়ে বড় ছাড়। রি বলেন, এর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া ততটুকু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়েছিল যতটুকু দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তার দেশ পরমাণু অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থায়ীভাবে বন্ধ করারও প্রস্তাব দিয়েছিল। কাজেই হ্যানয় শীর্ষ বৈঠকের মতো আবার আরেকটি আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমনকি আমেরিকা যদি ভবিষ্যতে আবার আলোচনার টেবিলে বসতে চায় তারপরও আমাদের মৌলিক নীতি-অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে এবং আমাদের প্রস্তাবনা কখনোই পরিবর্তিত হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *