জঙ্গি ঘাঁটিতে নয়, পাহাড়ি বনাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ভারত: আলজাজিরার বিশেষ রিপোর্ট

পাকিস্তান

(খাইবার পাখতুনখোয়া, পাকিস্তান) নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে কোনো জঙ্গি ঘাঁটি নয়, জনমানবশূন্য পাহাড়ি বন এলাকায় হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। ওই বিমান হামলায় কোনো ভবন বা কোনো স্থাপনা চুল পরিমাণও ক্ষতি হয়নি। এমনকি কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। হামলায় পাহাড়ি জঙ্গল এলাকার কিছু পাইন গাছ ভেঙে পড়েছে এবং এক কৃষকের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিযান এলাকার কাছেই সশস্ত্র গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ চালিত একটি মাদ্রাসা রয়েছে। এটারও কোনো ক্ষতি হয়নি। বহাল তবিয়তেই রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।

ভারতের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের ৮০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে দেশটির অন্তত তিনটি জঙ্গি অবস্থানে হামলা চালিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। দেশটির দাবি, কাশ্মীর সীমান্ত পারের পাকিস্তানের খাইবারপাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোটে ‘জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের ট্রেনিং সেন্টার’ গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আরও দাবি করে, এতে ঘাঁটিতে ঘুমিয়ে থাকা তিন শতাধিক জঙ্গি, তাদের প্রশিক্ষক ও সিনিয়র কমান্ডার নিহত হয়েছে।’

ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো দাবি করে, ‘ওই ট্রেনিং সেন্টারে প্রতি বছর একসঙ্গে ১০ হাজার জঙ্গিকে প্রশিক্ষণ দেয় জইশ-ই-মোহাম্মদ। তবে বিমান হামলার কথা স্বীকার করলেও ভারতের এসব দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ অভিহিত করে উড়িয়ে দেয় পাক কর্মকর্তারা।

বালাকোটের পাহাড়ি এলাকায় ভারতীয় বিমান হামলায় ভেঙে পড়ে পাইন গাছ

ওই হামলার একদিন পর অভিযান এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন আলজাজিরার সাংবাদিকরা। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে খাইবারপাখতুনখোয়ার পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী শহর জাবার একটি বনাঞ্চলে ও একটি কৃষিক্ষেতে চারটি বোম পড়ে। এতে পাহাড়ির এলাকার কয়েকটি জায়গা ধসে গেছে। ভেঙে গেছে কয়েকটি পাইন গাছ। সেখানে কয়েকটি গাছে বোমার স্পি­ন্টার গেঁথে আছে। পড়ে আছে বোমার খোসা। ওই এলাকায় অনেক ভবন ও পাকা স্থাপনা থাকলেও কোনো ভবনে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। হতাহত হওয়া তো দূরের কথা।

জাবা শহরের স্থানীয় কর্মকর্তা ও বিমান হামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছে আলজাজিরা। তারাও কোনো হতাহতের কথা কিংবা কোনো ভবন ধ্বংসের কথা জানাতে পারেননি। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে বিমান হামলার পরই হামলাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় হাসপাতালের কর্মকর্তারা ও ওই এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। তারাও নিহত বা আহত কাউকে পাননি বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী নুরন শাহ তার বাড়িতে দুটি বোমা পড়েছে বলে জানান। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘প্রথম বিস্ফোরণের আওয়াজেই জেগে উঠি আমি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *