ডাকসু নির্বাচনঃ ১৮ হলে ৩৫৯ বুথ করার প্রস্তাব

বাংলাদেশ

(ঢাকা, বাংলাদেশ) আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে তারা প্রার্থিতা ফিরে পেতে ডাকসু’র সভাপতি ভিসি অধ্যাপক  ড. আখতারুজ্জামান বরাবর আবেদন করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবেদনের সময় ছিল। আবেদনকারীরা আশা করছেন- ভিসি যাচাই-বাছাই শেষে তাদের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেবেন। এদিকে ডাকসু ও হল সংসদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বসে যেতে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৪২ হাজার ৯০৩ জন ভোটারের জন্য ১৮টি হলে ৩৫৯টি বুথ করার প্রস্তাব করেছে স্বাধিকার স্বতন্ত্র প্যানেল। শুক্রবার দৈনিক মানব জমিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

১৮ হলে ৩৫৯ বুথ করার প্রস্তাব স্বাধিকার স্বতন্ত্র প্যানেলের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের ‘বুথ সংখ্যা’ নিয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছে স্বাধিকার স্বতন্ত্র প্যানেল। গতকাল মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাবনা দেন তারা। এ সময় স্বাধিকার স্বতন্ত্র প্যানেল নিজেদের প্যানেলের প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করে। সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবনা পড়ে শোনান এই প্যানেলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান।

বলা হয়- বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৮টি হলের ৪২ হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আগামী ১১ই মার্চ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। তাদের দাবি সময় কম হওয়ায় প্রত্যেকটি হলে বুথের সংখ্যা বাড়িয়ে দিলে শিক্ষার্থীরা দুপুর ২টার মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করতে পারবে। তারা হলগুলোর শিক্ষার্থীদের অনুপাতে বুথ রাখার প্রস্তাবনা দেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, ৩৮টি পদে ভোট দিতে গেলে প্রার্থীদের নাম বেছে নিতে প্রত্যেকটি ভোটার ৩ মিনিটের বেশি সময় পাবে না। এই অল্প সময়ে সকল শিক্ষার্থীর ভোট প্রদানের সুযোগকে মাথায় রেখে পর্যাপ্ত বুথের ব্যবস্থা করার কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মনে করেন। সর্বমোট ৪২ হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩৫৯টি বুথ রাখার প্রস্তাবনা দিয়েছে তারা। 

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, অমর একুশে হলের ১ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য বুথ সংখ্যা ১১টি, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননিছা মুজিব হলের ২ হাজার ২৪০ জনের জন্য ১৯টি বুথ, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের ১ হাজার ৯২০ জন ভোটারের শিক্ষার্থীর জন্য ১৬টি, বিজয় একাত্তর হলের ৩ হাজার ১৪৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২৬টি, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ২ হাজার ৪৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৭টি, ফজলুল হক মুসলিম হলের ২ হাজার ৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৭টি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ১ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৬টি, জগন্নাথ হলের ২ হাজার ৪৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২০টি, জাতির জনক শেখ মুজিব হলের ১ হাজার ৯৭৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৫টি, জসীমউদ্‌দীন হলের ১ হাজার ৬২৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৪টি, সুফিয়া কামাল হলের ৩ হাজার ৭১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩১টি, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ২ হাজার ২৫৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৯টি, রোকেয়া হলের ৪ হাজার ৫৩০ শিক্ষার্থীর জন্য ৩৮টি, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ১ হাজার ৮০১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৫টি, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ২ হাজার ২৫৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৯টি, শামসুন্নাহার হলের ৩ হাজার ৭৩৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩১টি, স্যার এএফ রহমান হলের ১ হাজার ৮৩১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৫টি।

স্বাধিকার এ সময় নিজেদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তারা হলেন- সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু রায়হান, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জুলযাবাদাইন সাদমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মালিহা সুলতানা, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মো. পনিচ্চুজ্জামান চাচ্চু, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান খান পাভেল।

স্বতন্ত্রদের বসে যেতে চাপ প্রয়োগ ছাত্রলীগের

এদিকে ডাকসু ও হল সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বসে যেতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। যদিও এ বিষয়ে সংগঠনটির বক্তব্য নিতে শীর্ষ নেতাদের একাধিকবার ফোন দিলেও তারা কল রিসিভ করেননি। জানা গেছে, ডাকসু ও হল সংসদগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বসে যেতে চাপ দিচ্ছেন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ভিপি পদে স্বতন্ত্র এক প্রার্থী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমাকে ছাত্রলীগের নেতারা বসে যেতে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু আমি নির্বাচনে থাকার জন্যই মাঠে নেমেছি। নির্বাচনে থাকবো। এসএম হলের স্বতন্ত্র এক প্রার্থী জানিয়েছেন তাকেও ছাত্রলীগ নেতারা বসে যেতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। কিন্তু তিনিও নির্বাচনে থাকতে সংকল্পবদ্ধ। এদিকে অমর একুশে হলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হয়ে ভিপি-জিএস প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান শুভর বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য প্রার্থী একজন জানিয়েছেন তাকেও ছাত্রলীগ নেতারা বসে যেতে চাপ দিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *