পাকিস্তানে বিমান হামলা থেকে নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পাবে মোদির বিজেপি

ভারত

(নয়াদিল্লি, ভারত) লাইন অব কন্ট্রোল তথা নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে পাকিস্তানে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমান হামলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পড়ন্ত জনপ্রিয়তায় ফের জোয়ার সৃষ্টি করেছে। ফলে এই হামলা থেকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তার দল বাড়তি সুবিধা পেতে যাচ্ছে। ভারতীয় রাজনীতি পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের অনেকেই এমনটাই মনে করছেন।

আবার কেউ কেউ বলছেন, ভারতীয় জনগণের কাছে জাতীয় নিরাপত্তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাদের কাছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি। পকেটে টাকা আর পেটে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের নিশ্চয়তা যারা দেবে তাদেরকেই ভোট দেবেন জনগণ। বুধবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আÍঘাতী হামলার প্রতিশোধ নিতে মঙ্গলবার ভোরে পাকিস্তানের ৮০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে অন্তত তিনটি অবস্থান হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর ছয়টি জঙ্গিবিমান। হামলার পুরো প্রক্রিয়া প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে তদারকি করেন মোদি। সকালবেলায় বিমানবাহিনীর এ বীরত্বের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্যুদ্বেগে। আনন্দোল­াসে মাতে ভারতীয়রা।

রাজস্থানের চুরু এলাকায় পূর্ব নির্ধারিত এক সমাবেধে পুর্ণোদ্দমে বক্তব্য দিচ্ছিলেন মাথায় পাগড়ি পরা মোদি। তার পেছনেই ছিল পুলওয়ামা হামলায় নিহত সিআরপিএফ জওয়ানদের রক্তাক্ত ছবি। ভোরের ঘটনার কথা উলে­খ না করেই মোদি বলতে শুরু করেন, ‘দেশ ও জাতি এখন নিরাপদ হাতে, কারো সামনে মাথা নত হতে দেব না।’ এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তায় আরও ভুরি ভুরি অর্জন তুলে ধরেন তিনি। এ সময় সমাবেশ উঠে আসতে থাকে মোদি! মোদি! আওয়াজ। অথচ কয়েকদিন আগেও মোদির র‌্যালি-সমাবেশে স্লোগান দুরের কথা লোকই খুঁজে পাওয়া যেতে না।

একই সময়ে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর জেলায় গোমতি নদীর তীরে নিজগ্রামের মানুষের ‘দিওয়ালির আনন্দ’ উদযাপন করিেছলেন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। এখানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের বাহিনী জঙ্গির সব ঘাটিই ধ্বংস করে দিয়েছে।’ অমিত শাহের এ কথায় সঙ্গে সঙ্গে ধ্বনিত হতে থাকে মোদি! মোদি!

২০১৪ সালে হিন্দুত্ববাদের ধুয়া তুলে ভ‚মিধস জয় পেয়ে ক্ষমতায় আসে মোদির বিজেপি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে নোট বাতিলকরণ, জিসএসটি করারোপের মতো বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে তার সরকারের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে ‘সেমিফাইনাল খ্যাত’ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

সাম্প্রতিক সব জরিপেই বলা হয়েছে, লোকসভা নির্বাচনে নিশ্চিত হারবে বিজেপি এবং সেটা কমপক্ষে ৪০ আসনের ব্যবধানে। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তাই বিজেপির পাকিস্তানে বিমান হামলার মতো একটা ‘বীরত্বের গল্পের’ খুবই দরকার ছিল। পুলওয়ামা হামলা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *