বিমান হামলায় কত জন ও কারা মারা গেছে জানতে চান মমতা

ভারত

(কলকাতা, ভারত) নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের বিমান হামলায় জঙ্গিঘাঁটি আদৌ বোমা দিয়ে ওড়ানো হয়েছে কিনা, প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এর আগে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে জওয়ানের জীবন ও আত্মত্যাগ নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ করেন তিনি। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ফের হামলায় হতাহতের প্রমাণ চান বিরোধী জোটের অন্যতম নেত্রী মমতা।

অবশ্য বৃহষ্পতিবার  সন্ধ্যাতে দিল্লিতে সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীর প্রতিনিধিরা এক সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছেন, পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গী ঘাঁটি ধ্বংসের যথেষ্ট প্রমাণ ভারতীয় সেনাদের হাতে রয়েছে। এর আগেই কলকাতায়  নবান্ন থেকে বেরোনোর সময়  মুখ্যমন্ত্রী মমতাকেন্দ্রীয় সরকারকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘যুদ্ধ, যুদ্ধ করছে।  মিডিয়াও যুদ্ধ করছে। আজ পর্যন্ত বিরোধী দলগুলির সঙ্গে একটাও বৈঠক করেন নি। পুলওয়ামার ঘটনার পর মঙ্গলবার এয়ার স্ট্রাইকে কত জন এবং কারা মারা গিয়েছে, জানতে চাই।’

আসল ঘটনা কী, এই প্রশ্নও করেছেন মমতা। পুলওয়ামার জঙ্গী হানার ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতা নিয়েও ইঙ্গিত করেছেন মমতা। তিনি বলেছেন, আগাম সতর্কতা থাকলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গত মঙ্গলবার ভোরে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে বালাকোটে জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমান বাহিনী বিমান হামলা চালায় বলে দাবি করে নয়াদিল্লি। আরও দাবি, হাজার কেজি বোমা ফেলা হয় জঙ্গি ঘাঁটিতে। প্রায় তিনশ’ জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে।

 নাম না করেই নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘দেশমাতাকে ভালবাসি। জওয়ানদের রক্ত নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। কিন্তু ভোটের ফায়দা তোলার জন্য রাজনীতি হচ্ছে ‘ মমতা অভিযোগ করেছেন,  গত পাঁচবছরে কিছুই করা হয়নি। পাঠানকোট ও উরিতে হামলা হয়েছে। অথচ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।  উরির হামলার পর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল বাহিনী।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করে মমতার কটাক্ষ, ‘ধিতাংধিতাং করে সমস্ত টিভি চ্যানেলগুলির মাধ্যমে বিপথে চালিত করা হচ্ছে।’  মমতা আরও বলেন, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট, রয়টার্সের মতো বিদেশি সংবাদমাধ্যম বলছে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বোমায় মানুষ মারা যায়নি। কেউ বলছে একজন মারা গিয়েছে। সত্যটা কী ? আমরা সেনার সঙ্গে আছি। আমরা চাই, সেনাকে সত্যি কথাটা বলার সুযোগ করে দেয়া হোক। রাজনীতির প্রয়োজনে যুদ্ধ চাই না। নির্বাচন জেতার জন্য যুদ্ধ চাই না।’

এদিকেভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে, পাক সেনাবাহিনী ভুল ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সকলকে বিপথে চালিত করতে চেয়েছে। বলা হয়েছিল, তিন বিমানসেনা পাইলটকে ধরতে পেরেছে পাকিস্তান। এই তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে  ছড়িয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান বলেছিল, তিনটি ভারতীয় বিমান ধ্বংস করেছে ওরা। এই তথ্যও সর্বৈব মিথ্যা। সেই সঙ্গে ভারতীয় সেনার দাবি, পাক হামলায় ভারতের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভারতীয় সেনার মতে, নগদ ২ দিনে ৩৫ বার সংঘর্ষ বিরতি করেছে পাকিস্তান।  ভারতে এসে বোমা ফেলেছে পাক যুদ্ধবিমান। আর পাক যুদ্ধবিমানের টার্গেট ছিল ভারতের সেনাঘাঁটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *