কাশ্মির সংকট সমাধানে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা দেখতে চান ব্রিটিশ এমপিরা

ইউরোপ

(লন্ডন, ব্রিটেন) কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাজ্যের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা দেখতে চান দেশটির বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তেরেসা মের সরকারের ভূমিকা প্রত্যাশা করে বক্তব্য দিয়েছেন তারা। বক্তব্যে একদিকে যেমন ভারতের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপনের দাবি জানানো হয়েছে, তেমনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানোরও আবেদন করা হয়েছে। সংসদ সদ্যসদের একজন দাবি করেছেন, কাশ্মিরিদের জন্য গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেয়ার।

ইন্ডিয়া টাইমস জানিয়েছে, এসব আবেদনে সাড়া না দিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড মন্তব্য করেছেন, এই সংকট নিরসনে যদি যুক্তরাজ্য কোনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে যায় তাহলে তা দেশটির নিজের অবস্থানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। সম্পর্ক খারাপ হয়ে যেতে পারে ভারতের সঙ্গে। তবে যুক্তরাজ্য উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

গত বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের আইনপ্রণেতারা ভারত পাকিস্তান সংকট নিরসনে যুক্তরাজ্যকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, কাশ্মির সংকটের ঐতিহাসিক পটভূমির সঙ্গে যেহেতু যুক্তরাজ্য জড়িত সেহেতু এর সংকট সমাধানও তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য, ‘সেই সংকটের সমাধানে ভূমিকা রাখা উচিত, যার সৃষ্টিতে আমাদের ভূমিকা ছিল।’

যুক্তরাজ্যের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড মন্তব্য করেছেন, পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিষয়ে যুক্তরাজ্য অত্যন্ত চিন্তিত। কিন্তু ‘আমাদেরকে যদি এই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে হয় বা কোনও সমাধান কার্যকর করাতে হয় বা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে হয় তাহলে তা আমাদের নিজেদের অবস্থানকেই দুর্বল করবে। আমরা বিশ্বাসযোগ্যতা হারাব; বিশেষ করে ভারত সরকারের কাছে।’

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট সোমবার ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাজ্য দুই দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। এ বিষয়ে মার্ক ফিল্ডের ভাষ্য, যুক্তরাজ্যের ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‘ব্যাক চ্যানেল’ আছে, যাতে কোনও ধরনের আকস্মিক সংঘাত এড়ানো যায়।

যুক্তরাজ্যের ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনপ্রণেতারা পাকিস্তানের ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আইনপ্রণেতারা ভারতের নিন্দা করার আহ্বান জানান। কিন্তু ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড কোনো পক্ষের আহ্বানেই সাড়া দেননি। তার ভাষ্য, ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের সঙ্গেই যুক্তরাজ্যের শক্তিশালী সম্পর্ক ধরে রাখা উচিত।

ইমরান খানের সাবেক শ্যালক ও বর্তমানে ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির আইনপ্রণেতা জ্যাক গোল্ডস্মিথ হাউস অব কমন্সে বলেছেন, ‘পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এখন পর্যন্ত আমরা যা শুনেছি তার সবই জঙ্গিবাদ বিরোধী।’ ফিল্ড জবাবে বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি একমত। ইমরান খান এতদিন যা বলেছেন তা শান্তির পক্ষেই।’

কিন্তু পিআইওর আইনপ্রণেতা শৈলেশ ভারা বলেছেন, ‘এটা একদমই স্পষ্ট যে একটি দেশ সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা একটি বিশেষ দেশে বসবাস করছে। কিন্তু পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড ‘মধ্যখানে দাঁড়িয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ তিনি ফিল্ডের প্রতি আহ্বান জানান, সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় ও অন্য দেশে হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য যেন পাকিস্তানকে তার অসন্তোষের কথা জানায়। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জবাবে বলেছেন, যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে প্রকাশ্যে উদ্যোগ নেয়ার চেয়ে বরং একান্ত ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

ফিল্ড আইনপ্রণেতা বব ব্ল্যাকম্যানের অনুরোধেও সাড়া দেননি। ব্ল্যাকম্যান বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের উচিত পাকিস্তানকে বলা, যেন দেশটি জঙ্গি সংগঠনগুলো দমনে কার্যকর ভূমিকা নেয়। এর জবাবে ফিল্ড বলেছেন, এরকম পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে (পুলওয়ামা) কোনো অভিযোগ আনার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। লেবার পার্টির এমপি হিলারি বেন কাশ্মিরিদের মতামত জানতে একটি গণভোট কার্যকরের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান। কিন্তু মার্ক ফিল্ড বলেছেন, ‘কোনো পক্ষকেই গণভোট আয়োজনের পরামর্শ দেয়ার অনুকূল পরিবেশ এটা নয়। যুক্তরাজ্যের জন্য এই কাজ করা ঠিক হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *