পাকিস্তানে ৩০০ জঙ্গি নিহতের দাবি থেকে সরে এল ভারত

ভারত

(নয়াদিল্লি, ভারত) অবশেষে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতের বিমান হামলায় ৩০০ জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি থেকে সরে এসেছে ভারত। এ ধরনের দাবির জন্য দেশটির গণমাধ্যমকেই দায়ী করেছে নয়াদিলি­। রোববার বিমান হামলা ও এর ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদি সরকারের এ অবস্থান পরিস্কার করেছেন বিজেপি সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এসএস অহলুওয়ালিয়া।

তিনি বলেন, বালাকোটে বিমান হামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, পাকিস্তানকে একটা বার্তা দেয়া যে, শত্রু দেশের ভেতরে গিয়ে হামলা চালাতে সক্ষম ভারত। এটা কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিম্বা কাউকে হত্যা করার জন্য ছিল না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা সরকারি মুখপাত্রের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে এগুলো ছড়ানো হয়েছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপি কনভয় লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জইশি মোহাম্মদ। এতে ৪০ জওয়ান নিহত হয়। ওই হামলার জবাব দিতে ১২ দিন পর নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাক-অধ্যুষিত কাশ্মীর, বালাকোট এবং চাকোটিতে বোমা হামলা চালায় ভারতীয় বিমানবাহিনী। এতে ৩০০-৩৫০ জন নিহত হওয়ার দাবি করতে থাকে বিভিন্ন গণমাধ্যম। তবে এখন পর্যন্ত এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি কেউ। শুরু থেকেই এ দাবির সমালোচনা করে আসছে বিজেপি-বিরোধী দলগুলো।

এনডিটিভি জানায়, শনিবার শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এসএস অহলুওয়ালিয়া। সেখানে তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক, দুই ধরনের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টই পড়েছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যও শুনেছি। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে বোমাবর্ষণের পর রাজস্থানের চুরুতে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে একবারের জন্যও কি ৩০০ জঙ্গি মারা গেছে বলেছিলেন তিনি? বিজেপির কোনও মুখপাত্রের পক্ষ থেকে কি জঙ্গি মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে? অমিত শাহ কি তেমন কিছু বলেছেন?

পাকিস্তানকে বার্তা দিতেই নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী সেখানে বোমা ফেলে বলেও দাবি করেন অহলুওয়ালিয়া। তার কথায়, “সব পাহারা টপকে শত্রুর বাড়ির পাশে বোমা ফেলেছি ঠিকই। তবে এতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হোক তা চাইনি। শুধু কড়া বার্তা দেয়াই উদ্দেশ্য ছিল আমাদের যেন তারা বুঝতে পারে যে, শত্রুপক্ষকে ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা আছে আমাদের।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *