রাফাল বিমান থাকলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত: মোদি

ভারত

(নয়াদিল্লি, ভারত) ‘ভারতীয় বিমান বাহিনীর কাছে যদি ফ্রান্সের তৈরি রাফাল জঙ্গি বিমান থাকত তাহলে পাকিস্তানের সঙ্গে বিমান যুদ্ধে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।’ আফসোসের সুরে বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি তিনি আরও বলেছেন, কংগ্রেসের উচিত নয় বিজেপি বা সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে জাতীয় স্বার্থকে ক্ষুণ্ন হতে দেয়া। কংগ্রেস শাসনামলকে সরকারি অর্থ নয়-ছয়ের জন্যও দায়ি করেন তিনি। শনিবার (২ মার্চ) এক সভায় দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন মোদি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিন এ খবর জানিয়েছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। পরদিন বুধবার ভারতে হামলা চালায় পাক বিমান বাহিনী। অল্প সময়ের জন্য সংগঠিত হয় বিমান যুদ্ধ। এতে পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ভারত। অন্যদিকে পাকিস্তান ভারতের দুইটি বিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। এদের একটি মিগ-২১ বাইসন জঙ্গিবিমান।

সোভিয়েত আমলে রাশিয়ায় তৈরি মিগ-২১ জঙ্গিবিমান পৃথিবীর বহু দেশের বিমান বাহিনীর কাছে সমাদৃত হয়েছে। কিন্তু এটি প্রথম আকাশে পাখা মেলেছিল ১৯৫৬ সালে। ৬০ বছরেরও বেশি সময় আগে। ১৯৫৬ সালের মিগ-২১ পরে সংস্কার করে প্রস্তুত করা হয় বাইসন। আর একটি বাইসন সংস্করণের মিগ-২১ নিয়ে পাকিস্তানি এফ-১৬ এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনন্দন।

ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান দাসু এভিয়েশনের সঙ্গে ভারতের একটি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল যৌথভাবে রাফাল বিমান উৎপাদনের জন্য। কিন্তু দাসুর ভারতীয় সহযোগী নির্ধারণে পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। দাসু তার ভারতীয় সহযোগী হিসেবে বেছে নেয় রিলায়েন্স ডিফেন্সকে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে রুশ জঙ্গি বিমান উৎপাদন করে আসা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের কথা বিবেচনা করা হয়নি। ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্টে ফ্রাঁসোয়া ওলাদ ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, দাসু নিজস্ব বিবেচনায় নয়, ভারত সরকারের ইচ্ছায় রিলায়েন্স ডিফেন্সকে সহযোগী বানাতে বাধ্য হয়েছিল।

এরপর থেকে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর হয় কংগ্রেসসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। সভাপতি রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, ‘ফ্রাঁসোয়া ওলাদকে ধন্যবাদ জানাই এ সত্য প্রকাশের জন্য যে মোদি নিজে শত কোটি ডলারের ব্যবসার সুযোগ অনিল আম্বানির হাতে তুলে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’ তিনি টুইটারে লিখেছেন, এই দুর্নীতির মাধ্যমে মোদি ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ করেছেন! কংগ্রেসের আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা আনন্দ শর্মা বলেছিলেন, দুর্নীতি নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৪ সালে যে মোদি ক্ষমতায় এসেছিলেন, হল্যান্ডের দেয়া বক্তব্যের পর তার আর ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার কোনো অধিকার নেই।

মোদি শনিবার (২ মার্চ) এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন, ‘আজ ভারতের হাতে রাফাল জঙ্গি বিমান থাকলে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ বিমানের ফলাফল ভিন্ন হত। বিরোধী দলগুলোর উচিত নয়, বিজেপি সরকার বা তার বিরোধিতা করতে গিয়ে ভারতের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়া।’ রাফাল চুক্তি চূড়ান্তে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মোদি বলেছেন, কংগ্রেস সরকারে থাকাকালে অর্থ নয়-ছয় করেছে, দেশের কল্যাণ বাদ দিয়ে। রাফাল চুক্তির বিষয়ে তদন্তের আবেদন ভারতীয় আদালত গত ডিসেম্বরে খারিজ করে দেয়। কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, রাফালের সংক্রান্ত সবগুলো আবেদনের বিষয়ে শুনানি হবে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বাহিনীটির অন্তত ৪০ সদস্য প্রাণ হারান। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করে। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান হামলা চালায়। এর প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে শুরু হয় বিমান যুদ্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *