ভারতের হামলায় একটা ইটও নড়েনি জইশের: উপগ্রহ চিত্রে রয়টার্সের প্রতিবেদন

পাকিস্তান লিড নিউজ

(ইসলামাবাদ, পাকিস্তান) পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বিমান হামলায় সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের কোনো স্থাপনার একটি ইটও নড়েনি। পাহাড়ি বনাঞ্চলে গোষ্ঠীটি পরিচালিত একটি মাদ্রাসা রয়েছে। এর ছয়টি ভবন সম্পূর্ণ অক্ষত দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভবনগুলোর ছাদে কোনো ধরনের গর্ত নেই। কোনো দেয়ালও ভেঙে পড়েনি। এমনকি মাদ্রাসার চারপাশে কোনো যে গাছগুলো রয়েছে সেগুলোরও কিছু হয়নি।

বেশিরভাগ বোমা ফেলে হয়েছে মাদ্রাসা থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে একটি ফাকা স্থানে। এতে কয়েকটি গাছ উপড়ে গেছে। উচ্চ রেজ্যুলুশনের উপগ্রহ চিত্র পর্যালোচনা করে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

সপ্তাহ খানেক আগে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী শহর বালাকোটে হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর ছয়টি বিমান। হামলার পর থেকে জইশ-ই-মোহাম্মদের ‘প্রশিক্ষণ কেন্দে’্র ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করে প্রায় ৩০০ জন জঙ্গি হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছে ভারত।

হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে এখনও তুমুল বিতর্ক খোদ দেশটির রাজনীতিকদের মধ্যেই। সেই প্রেক্ষিতে হামলার ছয় দিন পর ৪ মার্চ বালাকোটের ওই মাদ্রাসার খুব কাছ থেকে তোলা হয় উপগ্রহের চিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক বেসরকারি স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট ল্যাব ইনকরপোরেটের সরবরাহ করা ছবিগুলোতে ওই মাদ্রাসার স্থানটিতে অন্তত ছয়টি ভবন দেখা গেছে।

ওই হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু প্ল্যানেট ল্যাবের ওই ছবিগুলোতে (৭২ সেন্টিমিটারের ছোট জিনিসও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে) পরিষ্কারভাবে অবকাঠামোগুলো দৃশ্যমান হয়েছে। এই ছবিগুলোর সঙ্গে ২০১৮ সালের এপ্রিলে গ্রহণ করা স্যাটেলাইট ছবিগুলোর তেমন কোনো পার্থক্য নেই। ভবনগুলোর ছাদে দৃষ্টিগোচর হওয়ার মতো কোনো ছিদ্র নেই। দাহ্য পদার্থের আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। বিস্ফোরণের ধাক্কায় উড়ে যাওয়া কোনো দেয়াল নেই। মাদ্রাসার আশপাশে উপড়ে পড়া কোনো গাছ নেই এমনকি বিমান হামলার অন্য কোনো চিহ্নই নেই।

ছবিগুলো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের দাবির বিষয়ে আরও সন্দেহ তৈরি করেছে। গত আট দিন ধরে তারা দাবি করে আসছে, ‘২৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাতের ওই বিমান হামলায় বালাকোট শহর ও জাবা গ্রামের কাছে ওই মাদ্রাসাস্থলের সব লক্ষ্যস্থলগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। মাটির সঙ্গে মিশে গেছে জইশ-ই-মোহাম্মদের জঙ্গি ঘাটি।’ রয়টার্স জানিয়েছে, স্যাটেলাইট ছবিতে যা দেখা গেছে এবং এসব ছবি তাদের সরকারি বিবৃতিকে দুর্বল করে দেবে কি না সে বিষয়ে গত কয়েকদিন ধরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ই-মেইলে প্রশ্ন করা হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *