হ্যানয় বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর ফের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করছে উত্তর কোরিয়া

এশিয়া প্যাসিফিক

(পিয়ংইয়ং, উত্তর কোরিয়া) গত সপ্তাহে ভিয়েতনামের হ্যানয় শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর ফের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির একটি দীর্ঘপাল্লার রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে নির্মাণ তৎপরতা স্যাটেলাইটের ছবিতে ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দিন কেন্দ্রের পুননির্মাণ শুরু হয় বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর স্ট্রাপেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ। খবর এএফপির।

গত সপ্তাহে কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক। বৈঠকে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌছতে ব্যর্থ হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে আংশিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চান উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারা। ট্রাম্প প্রস্তাব মেনে নিতে অস্বীকার করলে ভেস্তে যায় বৈঠক। আলোচনা সংক্ষিপ্ত করে বৈঠকের ইতি টানেন দুই নেতা।

সোমবার (৪ মার্চ) এক অনুষ্ঠানে পিয়ংইয়ং-এর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের প্রতি আহ্বান জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এদিকে কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এরমধ্যে এবার রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা।

ট্রাম্প-কিমের ভিয়েতনাম সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার পর সোমবার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন। বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া সম্মেলন আয়োজনে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরে মুন জানান, চুক্তি না হলেও উত্তর কোরিয়ার প্রধান পরমাণু কেন্দ্র ইয়ংবিয়ন ধ্বংসে সম্মেলনে সুনির্দিষ্ট আলোচনা করেছেন ট্রাম্প-কিম।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা অব্যাহত রাখা আমাদের সর্বোচ্চ আগ্রাধিকার। বতর্মান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান জেনে আমরা মধ্যস্থতার কাজ শুরু করবো। এক্ষেত্রে কোরীয় উপদ্বীপ ইস্যুতে আগ্রহী চীন ও রাশিয়ার সঙ্গেও আলোচনা করবো আমরা।

মুনের ঘোষণার পরদিন উত্তর কোরিয়া বিষয়ক মার্কিন দূত স্টিফেন বাইগুনের সঙ্গে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে সিউল ত্যাগ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার কোরীয় উপদ্বীপ বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি লি জি উন। তিন দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পরবর্তী ধাপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।

এরমধ্যে পরমাণু অস্ত্র উত্তর কোরিয়াকে বিপদে ফেলবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় প্রতিনিধি পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, উত্তর কোরিয়ার ঐতিহাসিক বিশ্বাস পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করলে তাদের সরকারের পতন ঘটবে। তাদের ধারণা পরমাণু অস্ত্র রক্ষাকবচ। আগামী ১০, ১৫ বা ২০ বছর পর এ পারমাণবিক অস্ত্রই উত্তর কোরিয়ার জন্য বিপদ ডেকে আনবে। বর্তমান পরিকল্পনা কোনোভাবই পিয়ংইয়ংয়ের জন্য টেকসই নয়। এ বিষয়ে কিম জং উনকে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এরমধ্যে আন্তর্জাতিক পরামাণু শক্তি সংস্থা বলেছে, উত্তর কোরিয়ার প্রধান পরামণু কেন্দ্র পিয়ংবিয়ন গেলো তিন মাস যাবত বন্ধ রয়েছে। যদিও বিভিন্ন মাধ্যম দাবি করে আসছে- উত্তর কোরিয়ার পরামাণু অস্ত্র তৈরিতে ওই কেন্দ্র থেকে প্রচুর পরিমাণ প্লুটোনিয়াম সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভিয়েতনাম ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থাটির উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশের অনুমতি নেই। ২০০৯ সালে তাদের পরিদর্শককে বহিষ্কারের পর স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিচালক উকিয়া আমানো বলেন, আন্তর্জাতিক পরামণু শক্তি সংস্থা উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমাদের বিশ্বাস, কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে সংস্থার এ প্রচেষ্টা কাজে আসবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো রাজনৈতিকভাবে একমত হলে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কার্যক্রম যাচাই এবং পর্যবেক্ষণে আমরা প্রস্তুত আছি।

এদিকে ভিয়েতনাম সফর শেষে মঙ্গলবার (৫ মার্চ) ভোর রাতে দেশে ফিরেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং ইন। এসময় রেলস্টেশন তাকে স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার শীর্ষকর্মকর্তারা। এরমধ্যে কিমের রাশিয়া সফরের খবর নিশ্চিত করেছে মস্কো। ক্রিমলিনের মুখপাত্র জানান, ১৪ এপ্রিল উত্তর কোরিয়া সফরে যাবে রুশ প্রতিনিধি দল। আলোচনার মাধ্যমে সম্মেলনের স্থান ও তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *