পাকিস্তানে জইশ-ই-মোহাম্মদের অস্তিত্ব নেই: পাক সেনাবাহিনী

পাকিস্তান

‘(ইসলামাবাদ, পাকিস্তান) পাকিস্তানের ভূখণ্ডে জইশ-ই-মোহাম্মদ নামের কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর অস্তিত নেই বলে দাবি করেছে পাক সেনাবাহিনী। সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেনে পাক আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদফতর আইএসপিআর -এর মহাপরিচালক আসিফ গফুর। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে তাদের অস্তিত্ব নেই। জাতিসংঘ ও পাকিস্তানই তাদের নিষিদ্ধ করেছে।’ তার এ বক্তব্য পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২৮ ফেব্রুয়ারি কুরেশি জানান, জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার পাকিস্তানে রয়েছেন।  

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতের ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বাহিনীটির অন্তত ৪০ জন সদস্য প্রাণ হারান। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করে। ওই হামলার পরই মাসুদ আজহার ও তার গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাবে সমর্থন দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত। দেশটিতে সক্রিয় জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক চাপও জোরালো রয়েছে।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদফতর আইএসপিআর এর মহাপরিচালক আসিফ গফুর পুলওয়ামা হামলার জন্য কাশ্মীরি জনগণের ওপর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়নকে দায়ী করেন। বলেন, পুলওয়ামা হামলা কাশ্মীরিদের ওপর নিপীড়নের ‘স্বাভাবিক ফল’।

নিয়ন্ত্রণরেখাতেও দুই দেশ মুখোমুখি অবস্থানে ছিলো মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই সেখানে সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে ভারতীয় আগ্রাসনের পর আমরা সেনা সংখ্যা বাড়িয়েছি।’ তিনি বলেন, স্বাভাবিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারত যখন আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে তখন আসলেই্ আমরা যুদ্ধের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম। আমরা তাদের প্রতিহত করেছি।’

পুলওয়ামায় হামলার জের ধরে ভারত ও পাকিস্তান পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা চালায়। নিজেদের সীমানায় দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত এবং অভিনন্দন বর্তমান নামের এক পাইলটকে আটক করে পাকিস্তান। এর ফলে ’৭১ পরবর্তী সময়ে প্রথমবারের মতো পাল্টাপাল্টি বিমান হামলায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। পাকিস্তানে আটক ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনকে ভারতের কাছে হস্তান্তরের পর যখন উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার দিকে পরিস্থিতি এগুচ্ছিল তখনই পাকিস্তানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে ভারত। তার একদিন পরই ভারতীয় সাবমেরিন আটকে দেয়ার দাবি করে পাকিস্তান।

আজাদ কাশ্মিরে ভারতীয় হামলা নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে আসিফ গফুর বলেন, সেখানে একটি ইটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। জানা যায়নি কোনো হতাহতের খবর। ‘ভারতীয় দাবি মিথ্যা’। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান থেকে পুলাওয়ামা হামলার পরিকল্পনা করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *