ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে জনপ্রিয়তা বাড়ছে ‘মিলিটারি শাড়ির’

ভারত লিড নিউজ

(নয়াদিল্লি, ভারত) ভারত-পাকিস্তান বিমানযুদ্ধে নতুন মাত্রা পেয়েছে ‘মিলিটারি শাড়ি’। ভারতে এখন সমরাস্ত্র, জঙ্গিবিমান, পাকিস্তান থেকে মুক্তি পাওয়া বৈমানিক অভিনন্দন বর্তমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি সংবলিত শাড়ি বাজারে উঠছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা যেখানে ৫০০ পিস এমন বিশেষ ‘মিলিটারি শাড়ি’ বিক্রির আশা করেছিলেন, সেখানে তিনি সর্বশেষ পেয়েছেন প্রায় চার হাজার শাড়ির অর্ডার। প্রতিদিনই বাড়ছে মিলিটারি শাড়ির চাহিদা। আরেকটি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি ডিজাইনের ‘মিলিটারি শাড়ি’ তৈরি করেছে। রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে দেশটির আধা সামরিক বাহিনী সিআরপিএফের অন্তত ৪০ সদস্য প্রাণ হারায় এক আত্মঘাতী বোমা হামলায়। এর প্রেক্ষিতে সীমান্তে গোলাবর্ষণ ছাড়াও বিমানযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ভারত-পাকিস্তান। ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের হাতে আটক হয় ভারতীয় বৈমানিক অভিনন্দন বর্তমান। পাকিস্তান পয়লা মার্চ (শুক্রবার) ফেরত দেয় সেই বৈমানিককে।

এখন পর্যন্ত হামলার বিষয়ে দাবি-পাল্টা দাবি উত্থাপন করে যাচ্ছে দুই দেশই। আর ভারতীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই সংঘাত যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ভারতের চলচিত্র নির্মাতারা পুলওয়ামা ও বালাকোট নামের স্বত্ব পেতে মরিয়া চেষ্টা করছেন। পুলওয়ামাতে সিআরপিএফ হামলার শিকার হয়েছিল। আর বালাকোট পাকিস্তানে। সেখানে থাকা জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটি বিমান হামলায় ধ্বংসের দাবি করেছে ভারত।

চলচিত্রের পর এবার ভারত পাকিস্তান সংঘাতের ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছে পোশাকেও। ভারতীয় শাড়ি নির্মাতারা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সেনা সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে বাজারে ছেড়েছেন শাড়ি। এমন একটি শাড়িতে দেখা গেছে, সামরিক টুপি পরা অবস্থায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। তার পাশে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র হাতে একজন ভারতীয় সেনা সদস্যের ছবি। আর তাদের মাথার ওপর দিয়ে উড়ছে জঙ্গি বিমান। এক একটি শাড়ির দাম রাখা হয়েছে ৮৫০ রুপি।

ভারতের সুরাটের ‘মিলিটারি শাড়ি’ তৈরির একটি কারখানায় গিয়ে রয়টার্স দেখেছে, সেখানে সবগুলো মেশিন কাজ করছে চব্বিশ ঘণ্টা। প্রিন্ট হচ্ছে, বৈমানিক বর্তমানের মুখের ছবিযুক্ত শাড়ি।অন্নপূর্ণা ইন্ডাস্ট্রিজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটিতে তিন শিফটেই কাজ করে চলেছেন কর্মীরা। তারপরও চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মানিশ আগারওয়াল বলেছেন, ‘আমি মাত্র শ পাঁচেক শাড়ির অর্ডার পাব ভেবেছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে অর্ডারের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আরও অর্ডার আসছে।’

ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে প্রতিপাদ্য করে শাড়ি তৈরি করছে জামকুড়ি নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান। তারা শাড়ির পাঁচটি ডিজাইন তৈরি করেছে। এদের কোনও কোনওটিতে ফুটে উঠেছে ভারতীয় বিমানে পাকিস্তানে ঢুকে হামলা চালানোর দৃশ্য। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ভিনোদ সুরানা বলেছেন, ‘যেখানে শাড়ির ডিজাইন তৈরি করতে সাত দিন লেগে যায়, সেখানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর মাত্র চার ঘণ্টায় আমি একটি শাড়ির ডিজাইন তৈরি করে ফেলেছি। আর এটা সেই রকম জনপ্রিয় হয়েছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলওয়ামা হামলা ও তার প্রেক্ষিতে ভারত-পাকিস্তানের দ্বন্দ্বে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুজরাট নরেন্দ্র মোদির শক্তিশালী ঘাঁটি। সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। আর এখনও বিজেপিই রাজ্যটির ক্ষমতায় রয়েছে। আগামী নির্বাচনে তিনি বাড়তি প্রচারণাগত সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে যে সুরাটে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহ ফুটিয়ে তুলে শাড়ি তৈরি করা হচ্ছে, তাও গুজরাটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *