কুয়েত মৈত্রি হলে যেভাবে উদ্ধার হল সিল মারা ব্যালট

বাংলাদেশ

(ঢাকা, বাংলাদেশ) শিক্ষার্থীদের কড়া পাহারা ও প্রতিবাদের মুখে সিল মারা ব্যালট উদ্ধার হয়েছে কুয়েত মৈত্রী হল থেকে। এক বস্তা সিল মারা ব্যালট উদ্ধারের পর ওই হলের ভোটগ্রহণ স্থগিত ও প্রভোস্টকে অপসারণ করা হয়। এরপর পুনরায় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন ও ডেইলি স্টার এ খবর জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত প্রতীকে সিল মেরে ভোট দেওয়ার নিয়ম। তবে ডাকসু নির্বাচনে ভোটারদের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন (x) দিয়ে ভোট দেয়া হচ্ছে। সোমবার (১১ মার্চ) সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে কুয়েত মৈত্রী হল থেকে সিল মারা বা ক্রস (x) দেয়া এই ব্যালট উদ্ধার করা হয়। এরপর ওই হলের শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। অপসারণ করা হয় ওই হলের প্রভোস্ট শবনম জাহানকে। ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাহবুবা নাসরিনকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সকাল পৌনে ১১টার দিকে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরুর সময় ঘোষণা করেন। ১১টা ১০ থেকে বিকাল  ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে এ সময়ের পরও ভোটারের লাইন থাকলে অথবা কেন্দ্রের ভেতরে কোনও ভোটার থাকলে সেই ভোট গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত ভোট নেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

জাল ব্যালট মাটিতে বিছিয়ে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা যেভাবে উদ্ধার হলো সিল মারা ব্যালট

প্রত্যক্ষদর্শী ঢাবির উন্নয়ন ও অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা নওশিন খান বলেন,  ‘ভোটগ্রহণ শুরুর আগে থেকেই হলের অডিটোরিয়ামের ভেতরে একটি কক্ষ বন্ধ অবস্থায় ছিল। ভোট নেওয়ার আগে প্রতিটি হলে ব্যালট বাক্স খুলে দেখানো হচ্ছিল। তবে আমাদের হলের প্রভোস্ট তা দেখাননি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা ভোটগ্রহণে বাধা দেন। পরে প্রো-ভিসি আব্দুস সামাদ ও প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রভোস্টসহ অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন।

শিক্ষার্থীরাও সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় অডিটোরিয়াম থেকে একটি ব্যালট বাক্স পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আবারও ব্যালট বাক্সটি ভেতরে আনা হলে শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করে তালা বন্ধ কক্ষ থেকে এক বস্তা ব্যালট উদ্ধার করেন। ব্যালটে হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ সমর্থিত প্রার্থীদের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন (ভোট) দেওয়া ছিল। ’

শিক্ষার্থীদের হাতে সিল মারা ব্যালট

স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আসিফুর রহমান বলেন, ‘ব্যালটে আগে থেকেই ভোট দেওয়া ছিল। এ ধরনের ঘটনা সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য কাম্য নয়। এ ঘটনায় ভোট স্থগিত করা হয়েছে। অন্য হলগুলোতে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়— তার জন্য জোর দাবি জানাই।’

ডাকসুতে ছাত্র ফেডারেশনের জিএস প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই এমন আশঙ্কা করেছিলাম। সেই আশঙ্কা থেকেই সকালে হলগুলোতে ব্যালট ও বাক্স পাঠানোর দাবি করেছিলাম। তবে প্রশাসন আমাদের কথা রাখেনি। তারা আগের রাতে ব্যালট ও বাক্স কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়ে ভোট কারচুপির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ  (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ( ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুসারে ডাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ২২৯ জন প্রার্থী। ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৯২৩ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *