বেথলেহেমে ইসরাইলের ৩০০ চেকপয়েন্ট; যেন বিশ্বের উন্মুক্ত কারাগার: আলজাজিরার রিপোর্ট

মধ্যপ্রাচ্য

(বেথলেহেম, ইসরাইল) বেথলেহেম নগরীর উত্তরে ইসরাইলের চেকপয়েন্ট ৩০০ তথা তল্লাশি চৌকির রয়েছে। চেকপয়েন্টগুলোর সামনে প্রতিদিন ভোর থেকে ভিড় করে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি। বিশ্বের উন্মুক্ত কারাগার খ্যাত গাজা থেকে প্রতিদিন অনেক মানুষ ওই ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকেন কাজের জন্য ইসরাইলে প্রবেশের আশায়।

ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে তারা থেকে হতাশায় চিৎকারও করে ওঠেন। এরই মধ্যে প্রায়ই ইসরাইলি পুলিশ কচু পাতার ওপর দিয়ে কঞ্চি চালানোর মতো ভিড়ের ওপর ব্যাটন চালিয়ে যায়। আহত হয় অনেক ফিলিস্তিনি। কেউবা ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে যায় প্রচণ্ড গরম সহ্য করতে না পেরে।

প্রচণ্ড গরম সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে এক ফিলিস্তিনি

চেকপয়েন্ট ৩০০ নামের এই তল্লাশি চৌকির মানবেতর অবস্থা নিয়ে বহুদিন ধরেই ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছে। কিন্তু অতীতের সব অভিযোগ অতিক্রম করেছে গত দুই মাসের বাস্তবতা। ইসরায়েলি পুলিশের বর্বরতা যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে আহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা। গত শুক্রবারেই এই তল্লাশি-চৌকিতে এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি পুলিশ।

এক দশকেরও বেশি সময় আগে এই তল্লাশি-চৌকিটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) এই চৌকিসংলগ্ন দেয়ালকে অবৈধ ঘোষণা করে বলেন, পশ্চিম তীরের সবচেয়ে জঘন্য তল্লাশি-চৌকি চেকপয়েন্ট ৩০০। কেউ দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে একবার তল্লাশি চৌকির প্রথম ধাপ পেরোতে পারলেও সামনে তার জন্য আরও চরম মানসিক নির্যাতন অপেক্ষা করে। সারা শরীর তল্লাশি ছাড়াও জর্জরিত করা হয় প্রশ্নবাণে।

আবেদ আবু শিয়েরা ওই ফিলিস্তিনিদের মধ্য একজন, যিনি গত ১১ বছর ধরে ওই তল্লাশি চৌকি হয়ে ইসরাইলে যান কাজের জন্য। প্রত্যেক দিনই একজন বা দুজন ফিলিস্তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে তিনি জানান। এ ছাড়া উঁচু লোহার বার থেকে পড়ে অনেকের পা ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

তবে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ব্যাপার হলো, প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে অনেক ফিলিস্তিনির পাঁজরের হাড় ফেটে ও ভেঙে যায়। আবু শিয়েরা এমন অনেক মৃত্যু দেখেছেন। গত অক্টোবরে ৬৫ বয়সী এক ফিলিস্তিনি লোহার বার থেকে পা ফসকে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *