আদালতে তোলা হয়েছে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারীকে

এশিয়া প্যাসিফিক

(ওয়েলিংটন, নিউ জিল্যান্ড) নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে গুলি চালিয়ে ৪৯ মুসল্লিকে হত্যা করা খুনি ব্রেন্টন ট্যারান্টকে শনিবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২৮ বছরের ওই উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী খুনির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিচারক। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৯ জন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা ব্রেন্টন ট্যারান্টের জন্য আদালতে কোনও জামিন আবেদন করা হয়নি। আগামী ৫ এপ্রিল ফের তাকে আদালতে দেখা যেতে পারে।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুই মসজিদে প্রবেশ করে মুসল্লিদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে ট্রাম্প সমর্থক উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী ব্রেন্টন ট্যারান্ট। প্রথমে আল নুর মসজিদ এবং সেখান থেকে গিয়ে লিনউডের আরেকটি মসজিদের মুসল্লিদের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। এমন নৃশংস হামলার ভিডিও ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করে খুনি ব্রেন্টন ট্যারান্ট। ১৭ মিনিটের ওই নৃশংস ভিডিওটি ফেসবুক সন্দেহভাজন হামলাকারীর একাউন্ট থেকে মুছে ফেললেও ডাউনলোড করে তা ততক্ষণে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ নামের ৭৪ পাতার একটি কথিত ইশতেহার তুলে ধরে উগ্রপন্থী এই খুনি। এতে বলা হয়, শ্বেতাঙ্গরা গণহত্যার শিকার এবং সে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে চায়। ইশতেহারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ের নতুন প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ব্রেন্টন ট্যারান্ট। একইসঙ্গে প্রস্তাব করা হয়, মুসলিমদের জন্য যেন একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়।

কি সাজা হতে পারে সন্ত্রাসী ব্রেন্টনের

নিউজিল্যান্ডে মৃত্যুদণ্ডের কোন বিধান নেই। মৃত্যুদণ্ডেরর বিধান তুলে দেয়া হয় ১৯৮৯ সালে। নিউজিল্যান্ডে সবশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় তার নাম Walter Bolton (১৯৫৭)স্ত্রীকে বিষপানে হত্যাদায়ে তাকে এই দণ্ড দেয়া হয়। এর আগ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে ৮৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এখানে হত্যার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সেই কারাদণ্ডের মেয়াদ কত হবে হবে সেনটেনসিং অ্যাক্টের মাধ্যমে সেটা ঠিক করেন সেনটেনসিং জাজ। হত্যার জন্য নিউজিল্যাণ্ডে দুই ধরনের সাজা হয়ে থাকে। দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড ও স্বল্পমেয়াদে কারাদণ্ড। দীর্ঘ মেয়াদে ৩০ বছর সাজা হয়েছে (William Dwane Bell (2001) তিনজনকে হত্যার দায়ে। এরপর অনেকের সাজা হয়েছে ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

আর স্বল্পমেয়াদে সাজা হলে প্যারেল সিস্টেমে সে সাজা ভোগ করতে হয়। যে সব অপরাধারীর অতীত ক্রিমিনাল রেকর্ড নাই,তাদের নির্দিষ্ট একটি সময় কারাগারে রাখার পর ছেড়ে দেয়া হয়। অবশ্য তাদের হাতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস লাগানো থাকে। সে ক্ষেত্রে খুন ব্রেন্টনের সাজা সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *