জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে বিশ্বজুড়ে লাখো শিশু-কিশোরের বিক্ষোভ

অন্যান্য

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্বনেতৃবৃন্দের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে লাখ লাখ শিশু-কিশোর। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার ব্যাংকক থেকে বার্লিন ও লাগোস থেকে লন্ডন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের রাজধানীর শ্রেণীকক্ষগুলো ফাঁকা রেখে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এই বিক্ষোভ করে।

বিশ্বের শতাধিক দেশের স্কুল শিক্ষার্থীরা ওই ধর্মঘটে অংশ। ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার রাস্তাগুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। এসময় তারা ‘যদি আপনারা বড়দের মতো দায়িত্বশীল আচরণ না করেন, তবে আমরাই করবো’ ও ‘আপনারা আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছেন’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে ও স্লোগান দেয়।

তিন দশক ধরে সতর্কতা সত্ত্বেও কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণের মাত্রা ২০১৭ সাল ও গত বছর অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়া ১৬ বছর বয়সী সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ দেশটির সরকারি টেলিভিশন এসভিটিকে বলেন, আমরা গভীর সংকটের মধ্যে আছি। ভয়াবহ এই সংকটিকে কয়েক দশক ধরে অবহেলার চোখে দেখা হচ্ছে। এখনই যদি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া না হয়, তবে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে।

মন্ট্রিলে সবচেয়ে বেশি লোক জড়ো হয়। সেখানে আনুমানিক এক লাখ ৫০ হাজার লোক মিছিলে যোগ দেয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো, পোর্টল্যান্ড, অরেগোন ও মিনেসোটার সেন্ট পলে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে মিছিলকারীরা ‘জলবায়ু পরিবর্তনের খবর মিথ্যা নয়’ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে। এদিক বিশ্বের অন্যতম ঘন জনবসতিপূর্ণ শহর দিল্লিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেয়। এসময় তারা রঙিন ফিতে নাড়িয়ে প্রতিবাদ করে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া ১৬ বছর বয়সী সৃজনী দত্ত বলেন, আমরা কী হাত গুটিয়ে বসে থাকবো নাকি আমাদের বিশ্বকে রক্ষায় কিছু করবো তা আমাদেরকেই ঠিক করতে হবে। সিডনিতে একজন বিক্ষোভকারী ১৮ বছর বয়সী চার্লিস রিকউড সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে লন্ডনের মধ্যাঞ্চলের সড়কগুলোতে কয়েক হাজার শিশু-কিশোর বিক্ষোভ করে। জনাকীর্ণ পার্লামেন্ট স্কয়ারে তারা ‘এখনই পরিবর্তনের সময়’ বলে স্লোগান দেয়। এরপর তারা ডাউনিং স্ট্রিট ও বার্মিংহাম প্রাসাদের পাশ দিয়ে মিছিল করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *