হামলার ৩ বছর আগে আল নুর মসজিদে পাঠানো হয় শূকরের মাথাভর্তি বাক্স

এশিয়া প্যাসিফিক

(ওয়েলিংটন, নিউজিল্যান্ড) শুক্রবারের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়ার আগেও অবমাননার শিকার হয়েছিল ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নুর। ২০১৬ সালে সেখানে পাঠানো হয়েছিল শূকরের মাথাভর্তি বাক্স। শূকরের মাথা ও আবর্জনাভর্তি বাক্সগুলো পাঠানোর ভিডিও চলতি সপ্তাহে ফের ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে। ভিডিওতে দেখা যায়, মসজিদে শূকরের মাথা ও বর্জ্যভর্তি বাক্স নিয়ে গিয়েছে এক ব্যক্তি। পরে ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ফিলিপ নেভিলে আরপস হিসেবে শনাক্ত করেছিল পুলিশ।

তিনি মসজিদের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হিটলারের প্রতি স্যালুট জানিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি মসজিদে শূকরের মাথা ও বর্জ্যভর্তি বাক্সগুলো বহন করেন। তিনি বলেন, শ্বেতাঙ্গই শক্তি। আমি ঘন ঘন মসজিদে যাই না। এই বাক্সে থাকা উচিত ছিল হাতবোমা। এই ঘটনায় ফিলিপ নেভিলে আরপসকে অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয় এবং জরিমানা করা হয় ৮০০ ডলার। সর্বশেষ এই ভিডিওটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।

সম্প্রতি ফেসবুকে বোরকা নিষিদ্ধ করার একটি পেজ ‘ব্যান দ্য বোরকা’ চালু হয়। তাতে শুক্রবারের হামলার পর মন্তব্য লিখেছেন আরপস। তিনি যখন মন্তব্য লিখেছেন তখনও নুর মসজিদে হামলা চলছিল। এ সম্পর্কে তিনি ফেসবুকে হামলাকারী ব্রেনটন টেরেন্টের প্রশংসা করে একটিই শব্দ লিখেছেন। তিনি লিখেছেন ‘এক্সিলেন্ট’। এ সম্পর্কে তার মন্তব্য জানতে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড তার মুখোমুখি হয়। তিনি বলেন, ব্রেনটন টেরেন্ট বদলা নিয়েছেন।

এই গ্রুপটির পেজ কে বা কারা পরিচালিত করে সে বিষয়ে গুগলের কাছে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু কোনো উত্তর পাওয়া যায় নি বলে লিখেছে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড। বলা হয়েছে, ওই পেজটিতে রয়েছে এন্টি-সেমিটিক পোস্টার। রয়েছে মসজিদের চারপাশে এ জাতীয় স্টিকার। এই গ্রুপে আরও ছবি রয়েছে আরপস ও অন্য একজন ব্যক্তির। তাদেরকে দেখা যাচ্ছে হিটলারকে স্যালুট দিচ্ছেন। এ সময় তারা আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ওপর ভর করে এমন স্যালুট দিচ্ছেন।

মসজিদে শূকরের মাথা পাঠানোর ওই ঘটনার তিন বছর পরে শুক্রবার একই মসজিদে সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করে কমপক্ষে ৫০ জন মুসলিমকে। ম্যাসে ইউনিভার্সিটির প্রফেসর পল স্পুনলি ৪০ বছর ধরে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের ওপর গবেষণা করছেন। তিনি ২০১৬ সালের ওই ঘটনা সম্পর্কে অবহিত। তিনি বলেছেন, আমি জানি না তারা আসলেই স্বদেশী নাকি নিজেদের কোনো স্বার্থ চরিতার্থ করতে এসব করেছে।

তবে তাদের আচরণ ও ব্যক্তিবিশেষকে অনলাইনে দেখে কর্মকান্ড সম্পর্কে আঁচ করা যায়। তিনি আরো বলেন, কয়েক দশক ধরেই নিউজিল্যান্ডে সক্রিয় রয়েছে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গ্রুপগুলো। তবে দুই দশকের বেশি সময় তারা ইহুদিদের ওপর থেকে দৃষ্টিভঙ্গি সরিয়ে নিয়ে টার্গেটে পরিণত করেছে মুসলিম গ্রুপগুলোকে। এর সঙ্গে অনেক নিউজিল্যান্ডার জড়িত নন। তবুও এটা ঘটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *