স্বয়ংক্রিয় ও আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বিক্রি নিষিদ্ধ করছে নিউজিল্যান্ড

এশিয়া প্যাসিফিক লিড নিউজ

(ওয়েলিংটন, নিউজিল্যান্ড) স্বয়ংক্রিয় ও আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বিক্রি নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড।  সে সঙ্গে সব ধরনের অ্যাসল্ট রাইফেলও নিষিদ্ধ করছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার সকালে এক সাংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা অরডার্ন। তিনি বলেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করছি, নিউজিল্যান্ড সামরিক স্টাইলের সব ধরনের আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিষিদ্ধ করবে। আমরা সব ধরনের অ্যাসল্ট রাইফেলও নিষিদ্ধ করব। ‘

১৫ মার্চ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫০ মুসল্লিকে হত্যা করে উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। ওই হামলার প্রেক্ষিতেই স্বয়ংক্রিয় ও আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বিক্রি নিষিদ্ধের উদ্যোগ নিলেন জাসিন্ডা অরডার্ন। তিনি বলেন, নিশ্চিত থাকুন, এটি শুধু আমাদের কর্মযজ্ঞের যাত্রা। ভবিষ্যতে যে কোনও সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়।

হামলার আগে অনলাইনে ১৬ হাজার ৫০০ শব্দের একটি ইশতেহারে নৃশংস এ হামলার পেছনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে খুনি ব্রেন্টন ট্যারান্ট। সেখানে উঠে আসে মুসলিমবিদ্বেষ, অভিবাসী বিদ্বেষ ও ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের’ মতো বিষয়গুলো। মুসলমানদের উসমানীয় খিলাফত বা অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তৎকালীন ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের বিজয়ের কথাও উল্লেখ করেছে সে।

তুরস্ককে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে পুরনো শত্রু বলে উল্লেখ করা হয়েছে ইশতেহারে। এতে ইস্তাম্বুলকে লক্ষ্য করে বলা হয়, আমরা কনস্টান্টিনোপলে (বর্তমান তুরস্ক) আসছি। শহরের প্রতিটি মসজিদ ও মিনার ধ্বংস করবো। হাজিয়া সোফিয়াকে মিনার থেকে মুক্ত করা হবে এবং কনস্টান্টিনোপল আবারো খ্রিস্টানদের দখলে আসবে।

বর্ণবাদী বিদ্বেষ নিউজিল্যান্ডের যে স্থানটিতে বন্দুকের গুলি হয়ে আছড়ে পড়েছিল, সেই ক্রাইস্টচার্চে সব সময়ই ধ্বনিত হয়ে আসছে বিশ্বমানবের ঐকতান। ভারতীয় উপমহাদেশ আর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মানুষ সেখানে অভিবাসী হয়েছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় তাদের জড়িয়ে নিয়েছে নিজেদের বুকে। বিশ্বমানুষের এই সম্মিলনের প্রতীক হয়েই সেখানে দাঁড়িয়ে আছে হামলার শিকার হওয়া নুর মসজিদ।

হামলাকারীর বিদ্বেষী ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর তাই কোনও পাল্টা ঘৃণাবাদ স্পর্শ করতে পারেনি ক্রাইস্টচার্চের বাসিন্দাদের। বরং বিভক্তি, ঘৃণা আর বিদ্বেষের বিপরীতে সম্মিলন আর ভালোবাসার শক্তিতে আবারও জাগ্রত হতে চাইছে ছবির মতোন সুন্দর শহরটি। ক্রাইস্টচার্চ বার্তা দিচ্ছে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের শরীরে একই রক্ত প্রবহমান, সব মানুষের বেদনাস্থলও এক।

ভবিষ্যতে যেন মানুষের এই ঐকতান আবারও কোনও বিদ্বেষী বন্দুকধারীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে না পারে সেজন্যই স্বয়ংক্রিয় ও আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল বিক্রি নিষিদ্ধের পাশাপাশি অস্ত্র আইন পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউ জিল্যান্ড। এরদোয়ানের মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে তুরস্ক যাবেন নিউ জিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *