কারাগারে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেনটনের পাহারায় দেয়া হয়েছে শ্বেতাঙ্গ কারারক্ষী

এশিয়া প্যাসিফিক

(ওয়েলিংটন, নিউজিল্যান্ড) আর ১০ জন সাধারণ বন্দির মতো নয়। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী বেনটন টেরেন্টকে কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। কারারক্ষী নিয়োগের ক্ষেত্রেও নেয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। তার পাহারায় দেয়া হয়েছে শ্বেতাঙ্গ কারারক্ষী।

কৃষ্ণাঙ্গ বা অন্যান্য গোষ্ঠীর কারারক্ষী দিলে তাদের ওপর সে আক্রমণ করতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে তাকে সামরিক বিমানে করে কড়া নিরাপত্তাবিশিষ্ট অকল্যান্ডের পারোমোরেমো কারাগারে নেয়া হয়। ওই কারাগারে বন্দি রয়েছে দেশটির কুখ্যাত সব অপরাধী। সেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রয়েছে সে।

১৫ মার্চ শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জন মুসলি­কে হত্যা করে ব্রেনটন। ঘটনার সময় পুলিশের হাতে আটক হয় সে। পরদিন শনিবারই তাকে আদালতে তোলা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছেন। আগামী ৫ এপ্রিল ফের শুনানির জন্য তাকে আদালতে তোলা হবে।

সরকারের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রোববার নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, হামলাকারীকে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার জন্য নিয়োজিত রয়েছে কেবল শ্বেতাঙ্গ কারারক্ষীরা। নিউজিল্যান্ডে সাধারণত এমনটা ঘটতে দেখা যায় না। জাতিগোষ্ঠী কিংবা বর্ণ বিবেচনা করে নিউজিল্যান্ডে কারারক্ষী নিয়োগ করা হয় না।’ কর্তৃপক্ষ হয়তো ভাবছেন অশ্বেতাঙ্গ নিরাপত্তা কর্মীকে নিয়োজিত করা হলে তাদের আক্রোশের শিকার হতে পারেন ওই হামলাকারী। তবে তার প্রশ্ন: কেন এই বিশেষ নিয়ম করতে হবে।

ব্রেনটনের কারারক্ষী হিসেবে কেবল শ্বেতাঙ্গদেরকেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এক কর্মকর্তা বলেছেন, আমাদের বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের অনেক কর্মী রয়েছেন। নিরাপত্তাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আমাদের স্বাভাবিক রুটিন মাফিক কর্মী বণ্টন প্রক্রিয়া তার জন্য পরিবর্তন হয়নি এবং হবেও না।’

নিউজিল্যান্ড প্রতিরক্ষা বাহিনী জােিয়ছে, অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মিলিত হয়ে তারা ট্যারান্টকে নিরাপদভাবে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছেন। পারেমোরেমো কারাগারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বন্দি রয়েছে ব্রেনটন। ওই কারাগারে ২৬০ জন বন্দি থাকতে পারে। প্রত্যেকের ৩.১ মিটার প্রস্থ ও ২.৯ মিটার উচ্চতার সেলে থাকতে হয়। সেখানে টয়লেট, শাওয়ার ও বেসিন রয়েছে। দেশের সব কুখ্যাত অপরাধীকে রাখা হয় সেখানে।

ট্যারান্টকে অন্যান্য অপরাধী থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা প্রত্যক্ষ কিংবা সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি রাখা হচ্ছে তার ওপর। এছাড়া কারও সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নেই তার। কাছে থাকবে না কোনও পত্রিকা। থাকবে না রেডিও কিংবা টেলিভিশন সুবিধাও।

ওই সূত্র জানায়, স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই তার ওপর নজরদারি চলছে। তবে তার পোশাকের ব্যাপারেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। আত্মঘাতী কোনও পদক্ষেপ যেন না নিতে পারে তাই পরিধানের জন্য তাকে নীল গাউন সরবরাহ করা হয়েছে। এটা অপেক্ষাকৃত মোটা আকৃতির পোশাক।

৪০ বছর সাজা ভোগ করে সম্প্রতি সেখান থেকে মুক্তি পাওয়া কুখ্যাত বন্দি আর্থার টেলর ওই কারাগার নিয়ে তার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। ১৩ মাস সেখানে থাকা আর্থার বলেন, দিনে একবার গোসল করার সুযোগ ছিলো। দরজার এক ছিদ্র দিয়ে খাবার ভেতরে দেওয়া হতো। বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগই নেই সেখানে। অন্যান্য বন্দির সঙ্গে যোগাযোগের কোনও ব্যবস্থা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানকার পরিবেশ মানসিকভাবে মানিয়ে নেওয়া খুবই কঠিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *