নরওয়েতে ১৩৭৩ যাত্রী নিয়ে শক্তিশালী ঝড়ের কবলে বিলাসবহুল প্রমদতরী; দিনভর উদ্ধার অভিযান

ইউরোপ

(অসলো, নরওয়ে) নরওয়ের পশ্চিম উপকূলে কয়েক মিটার উঁচু ঢেউ ও শক্তিশালী ঝড়ের কবলে পড়েছে একটি বিলাসবহুল প্রমদতরী। জাহাজটিতে প্রায় ১৩০০ রয়েছে। জরুরি বিপদ সংকেত পাঠানোর পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। রোববার বিকাল পর্যন্ত হেলিকপ্টারে করে ৩৯৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চারটির ইঞ্জিনের সবগুলো বিকল হয়ে যায়। একদিন পর ফের চালু করা সম্ভব হয়েছে। জাহাজটিকে নিরাপদে তীরে ভেড়ানোর চেষ্টা চলছে।

খারাপ আবহওয়ায় পড়ে শনিবার সকালে এমভি ভাইকিং স্কাই নামের জাহাজটির চারটির ইঞ্জিনের সবগুলোই বিকল হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ ঝাকুনি দিয়ে ঢেউয়ের আঘাতে কলার খোসার মতো দুলতে থাকে জাহাজটি। এতে আরেকটি টাইটানিক পরিস্থিতির আতঙ্ক গ্রাস করে কর্তৃপক্ষকে। এ সময় জাহাজের যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ এক আতঙ্ক। জরুরি বিপদ সংকেত পাঠান জাহাজের ক্যাপ্টেন। এরপর লোকজনকে উদ্ধারে মোতায়েন করা হয় ৫টি হেলিকপ্টার ও বেশ কয়েকটি টাগবোট ও জাহাজ।

মোরে ওগ রোমসডালে কাউন্টির পুলিশ বলেছে, ঘটনার সময় জাহাজটির ইঞ্জিনে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। প্রচণ্ড উঁচু হয়ে ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে এর গায়ে। তীব্র বাতাস বার বার গতিপথ পাল্টে দিতে থাকে এর। ফলে জাহাজের আরোহীদের মধ্যে আর্তচিৎকার শুরু হয়। এমন অবস্থায় এমভি ভাইকিং স্কাই থেকে বিপদসংকেত পায় নরওয়ের সমুদ্র উদ্ধার বিষয়ক এজেন্সি।

শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। জাহাজটিতে থাকা সবাইকে তীরে আনার কাজ শুরু হয়েছে। ওই এজেন্সি বলেছে, এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে ৫টি হেলিকপ্টার ও কয়েকটি জাহাজ। রোববার বিকাল পর্যন্ত ৩৯৭ জনকে তীরে আনা সম্ভব হয়। প্রত্যেক ট্রিপে ১৫-২০ জনকে উদ্ধার করা হচ্ছে। পুলিশ বলেছে, মারাত্মক আহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটে নি। উদ্ধারের পর ৩০ জনকে নেয়া হয়েছে হাসপাতালে।

ঘটনাস্থল থেকে নরওয়ের পত্রিকা ডাগব্লাডেটকে একজন বলেছেন, ঘটনার সময় সমুদ্রের ঢেউ কয়েক মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে জাহাজের গায়ে আছড়ে পড়ছিল। ভিজি পত্রিকাকে পুলিশ বলেছে, সমুদ্রে বাতাসের গতি ছিল ৩৮ নট। আর জাহাজটি তীর থেকে প্রায় ২.৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪.৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।

জাহাজটির একটি ইঞ্জিন নতুন করে চালু করা সম্ভব হয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান চলা অবস্থায় জাহাজটিকে উপক‚লের কিছুটা কাছাকাছি আনা সম্ভব হয়। এমভি ভাইকিং স্কাই হলো একটি ভাইকিং ওশিন ক্রুজ জাহাজ, যার যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালে।

সমুদ্রে নৌচলাচল বিষয়ক ওয়েবসাইট মেরিন ট্র্যাফিক দেখাচ্ছে জাহাজটি ট্রোমসো থেকে স্টাভাঙ্গারে যাচ্ছিল। কিন্তু এই দুর্বিপাকে পড়ে মোলডের কাছে ফারস্টাড শহরের কাছাকাছি উপক‚লে। জাহাজটির কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেখানো হয়েছে, এর ধারণ ক্ষমতা ৯৩০ জন। কিন্তু ঘটনার সময় এতে প্রায় ১৩৭৩মানুষ ছিলেন। তা ছাড়া জাহাজটি যে এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল তা হুস্তাডভিকা নামে পরিচিত। নরওয়ে উপক‚লে সবচেয়ে বিপদজনক এলাকার মধ্যে এটি অন্যতম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *